মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন: ২২ অক্টোবর ছুটি অনুমোদন, দুর্গাপূজায় মিলছে ৫ দিনের ছুটি
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন: ২২ অক্টোবর ছুটি অনুমোদন, দুর্গাপূজায় মিলছে ৫ দিনের ছুটি

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন: ২২ অক্টোবর ছুটি অনুমোদন, দুর্গাপূজায় মিলছে ৫ দিনের ছুটি
ছবি সংগৃহীত।

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) একদিন ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ফলে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ ও ২১ অক্টোবর সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছুটি রয়েছে। এরপরের দিন ২২ অক্টোবর অফিস খোলা থাকার কথা ছিলো।

পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার, যা সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি।

২২ অক্টোবর ছুটি অনুমোদন হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি কাটাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

চলতি বছর মহালয়া হবে ১০ অক্টোবর। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।

১৭ অক্টোবর সরকারি অফিস খোলা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর তারিখ ছুটি থাকবে এবং আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অফিস খোলা থাকবে।




শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয় : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয় : প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রীর ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একজন শিক্ষক তিনি কর্মরত কিংবা অবসর জীবনে যেভাবেই থাকুন তার সুমহান পেশার কারণেই আমৃত্যু তিনি রাষ্ট্রের কাছে অবশ্যই সম্মানীয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পার হওয়ার পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই হচ্ছেন ‘আদর্শ রোল মডেল’। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে নিজেকে একজন রোল মডেল হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারেন। বর্তমান সরকার সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এই সময়ে প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষা বিকল্পহীন হয়ে উঠেছে। সুতরাং, ‘শিখন’ এবং ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং শিক্ষা সিলেবাসের আধুনিকায়ন এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী হাতে পাচ্ছে। সুতরাং, শিক্ষার্থীরা যাতে বই বিমুখ হয়ে না ওঠে, এ ক্ষেত্রে ‘শিখন’ এবং ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  

তিনি বলেন, মুখস্থ করার চেয়ে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলা জরুরি। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেও নিজের শিক্ষক হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই স্কুলের সিলেবাস আধুনিকায়ন করেছে।  

‘শিখন’ কৌশল হিসেবে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ সারাবিশ্বেই, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন, বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ষষ্ঠ শ্রেণির’ শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে একটি নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্লাসেও এই বই দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আমরা এমন একটি সময়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করছি, যখন শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একদিকে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা, অন্যদিকে রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে বর্তমানে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সুতরাং, সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর আরও আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।  

তারেক রহমান বলেন, দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবেনা। শিক্ষাজীবনের যে–কোনো পর্যায় থেকে কেউ কোনো কারণে ড্রপ আউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত থাকা জরুরি। আপনারা দেখেছেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারেই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজেট আরো বাড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপ্তি অনেক বড়।

তিনি বলেন, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। আমরা অস্বীকার করতে পারিনা, দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষা সুযোগের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে এখনও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে, শহরাঞ্চল কিংবা গ্রামাঞ্চল সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাই যাতে দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারেরে নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে।
এক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার।


কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন, তবে আমাদেরকে এটিও মনে রাখতে হবে, একটি কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, বরং নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন অবশ্যই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যানেরও কারণ হতে পারে।

সুতরাং, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা এবং অন্যের প্রতি সম্মান— এসব মূল্যবোধ আমাদের শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পরিবারের পর শিক্ষা-শিক্ষিকারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। দেশের শিক্ষক সমাজ, বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ এবং সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমি আগেও বলেছি, শিক্ষকতা পেশা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ কিংবা একটি সাধারণ চাকুরির মতো হতে পারেনা।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে কর্ম জীবনে শিক্ষকতা পেশাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সরকার শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে সেভাবেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে। রাষ্ট্র এবং সমাজে শিক্ষকদের সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।




সবার জন্য নিরাপদ আবাসন সময়ের দাবি : প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য নিরাপদ আবাসন সময়ের দাবি : প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আরও অনেকগুলো বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই আবাসন বলতে কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানকে বোঝায়। সব নাগরিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই আবাসন।

তারেক রহমান বলেন, সব নাগরিকের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবু প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বেরসঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভারপপুলেটেড (জনাকীর্ণ)। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ—এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। তবে সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবাসম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা একটি কার্যকর বিকল্প বলেও সরকার মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের যে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন, তার বাইরে এসে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদেরকে নানারকম চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা উভয়েরই মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায়, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সংগত কারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য। সে ক্ষেত্রে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবাসম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 




বনের ভিলেন সাজ্জাদের অঢেল সম্পদ

বনের ভিলেন সাজ্জাদের অঢেল সম্পদ
ছবি সংগৃহীত।


# রাঙামাটির ডিএফও সাজ্জাদের বিরুদ্ধে পাহাড়সম দুর্নীতির অভিযোগ
# ভুয়া জোত পারমিটে ঘুষ, রেঞ্জে মাসোহারা, 
# বদলি বাণিজ্য ও বন উজাড়ের অভিযোগ
# সংরক্ষিত বন উজাড়ে সিন্ডিকেট, কোটি টাকার সম্পদ 
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, কথিত ভুয়া জোত পারমিট, রেঞ্জ ও বিট থেকে মাসোহারা আদায়, বদলি বাণিজ্য এবং সংরক্ষিত বন থেকে কাঠ পাচারে মদদের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগকারীদের দাবি, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার ছত্রছায়াতেই বনজ সম্পদ লুটের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলে ‘ক্রিম’ নামে পরিচিত বলে দাবি করা এই কর্মকর্তার সম্পদ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিজ গ্রাম শাহজাদপুরের কাদল মাদাই এলাকায় ছয়তলা একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে । সরকারি চাকরি থেকে প্রাপ্ত বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ডিএফও সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু কথিত জোত পারমিট বাণিজ্য। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে কাঠ পরিবহনের সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন পারমিটের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন করা হয়। প্রতি ঘনফুট কাঠের পারমিটে ৩৫ টাকা হারে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শুধু পারমিট নয়, বিভিন্ন রেঞ্জ অফিস থেকেও মাসিক ‘খরচ’ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি রেঞ্জ অফিস থেকে মাসে এক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।
রাঙামাটির কাপ্তাই, কর্ণফুলী, ফারুয়া ও আলিখিয়াং রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় গাছ কাটার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। কাপ্তাই খালমুখ বিট দিয়ে প্রকাশ্যেই গাছ কেটে কাঠ পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ ছাড়া সংরক্ষিত বন থেকে এভাবে কাঠ পাচার সম্ভব নয়।
শুধু খালমুখ বিট থেকেই মাসে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ‘মাসোহারা’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থ কার কাছে যায় এবং কারা এর ভাগ পান-তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিটের কাঠ জব্দ, পরিবহন, পারমিট ও রাজস্বের নথি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ডিএফও সাজ্জাদ কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন ও বদলির নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  কথিত জোত পারমিট বাণিজ্যে প্রতি ঘনফুটে পাঁচ টাকা হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 
অভিযোগকারীদের দাবি, সরাসরি মাঠে না থেকেও প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে একটি চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সম্পদের উৎস নিয়ে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন কর্মকর্তার দৃশ্যমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে তাঁর বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ছয়তলা ভবন নির্মাণ ও ঢাকায় ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগের পর তাঁর সম্পদের হিসাব অনুসন্ধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
বন বিভাগের দায়িত্ব বন রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণ করা। অথচ সেই বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই যদি বন উজাড়, কাঠ পাচার, পারমিট বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে এসব কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করছে কারা-এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে এস এম সাজ্জাদ হোসেনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি। এসএমএস করা হলেও উক্তর দেননি। তবে তার ক্যাশিযার খ্যাত ওমর ফারুক স্বাধীন জানান প্রকাশিত গুলো মিথ্য একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াতে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে। 
এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিএফ আব্দুল আওয়ালকে ফোন করা হলে তিনিও নিসিভ করেনি।