ভূজপুরের নারায়ণহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফরের স্বপদে ফেরার গুঞ্জনে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল জনতা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

ভূজপুরের নারায়ণহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফরের স্বপদে ফেরার গুঞ্জনে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল জনতা

ভূজপুরের নারায়ণহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফরের স্বপদে ফেরার গুঞ্জনে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল জনতা
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের পলাতক চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদের স্বপদে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার (২ জুন) সকাল ১০টায় নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ ও বাজার এলাকায় প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হতে থাকেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নারায়ণহাট বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

এ সময় আবু জাফর মাহমুদের রোষানলে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী, নিরীহ বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মামলা-হামলা করে ঘরবাড়িছাড়া করা ইসলামবিদ্বেষী ও বামপন্থী আবু জাফরকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা প্রতিহত করা হবে এবং এর দায়ভার তাঁর পেছনে কাজ করা অসাধু ব্যক্তিদেরই বহন করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সিকদার, কৃষকদল সভাপতি মাস্টার আবুল বশর, সহসভাপতি আবুল বশর, সিনিয়র সহসভাপতি পেয়ারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেন, ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, প্রভাব খাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সোমবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।