বোয়ালখালীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

বোয়ালখালীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

বোয়ালখালীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
ছবি সংগৃহীত।

বোয়ালখালীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. শওকত আলম, ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাবেদ মেহেদী হাসান সুজন, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ নূরনবী চৌধুরী, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার, কৃষি কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম ও মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হাসানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মতো ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জাতির কঠিন ক্রান্তিলগ্নে দ্বিতীয়বারের মতো ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছিলেন। তাঁর সেই সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ফলে এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, গণমাধ্যম বাক স্বাধীনতা পেয়েছিল এবং মানুষ তাঁর মতপ্রকাশের অধিকার ফিরে পেয়েছিল।

বক্তারা আরও বলেন, তাঁরই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯০-এ স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছিল বিএনপি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে।

আলোচনা সভা থেকে দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।




বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠলো শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান

বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠলো শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচিতে বেজে উঠলো ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা গান।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ শিরোনামের গানটি বাজানোর ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের দাবি, ইউটিউব থেকে একের পর এক গান বাজানোর সময় অসতর্কতাবশত গানটি চালু হয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর দ্রুত সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বিএনপির নেতারা জানান, কারা গানটি বাজিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ গানটি বাজছে। এ সময় পাশের সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা ও সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান মোবাইল ফোনে  জানান, দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ফলে বিষয়টি জানতে পারেননি। তবে কারা গানটি বাজিয়েছেন, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শওকত আজম খাজা জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে নগরের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচি ছিল। আগ্রাবাদে দলের কর্মসূচিতে অন্য দলের গান বাজানোর একটি ভিডিও তাঁর নজরে এসেছে। তবে কারা গানটি বাজিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ফয়সাল  জানান, বিএনপির কর্মসূচিতে অন্য একটি গান বাজানোর ভিডিও তাদের নজরে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে দলীয় গান বাজানো হচ্ছিল। একের পর এক গান চলার মধ্যে কোনো একপর্যায়ে গানটি বেজে ওঠে। পরে দ্রুত তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে গানটি বাজানো হয়নি।




বোয়ালখালীতে ওয়ালটনের ‘সিজন-২৬ হাউসফুল অফার’-এর পুরস্কার বিতরণ

বোয়ালখালীতে ওয়ালটনের ‘সিজন-২৬ হাউসফুল অফার’-এর পুরস্কার বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের অন্যতম ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ‘সিজন-২৬ হাউসফুল অফার’-এর আওতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ইলেকট্রনিক্স বাজারে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের চিফ সেলস অফিসার ফিরোজ আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক আমান রেজা, মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান এবং বোয়ালখালী ইলেকট্রনিক্স বাজারের স্বত্বাধিকারী এস এম জামাল উদ্দিন। এ ছাড়া ওয়ালটনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমবেত ক্রেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বোয়ালখালী ইলেকট্রনিক্স বাজার থেকে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ‘হাউসফুল অফার’-এর সৌভাগ্যবান বিজয়ী হয়েছেন চরণদ্বীপের আসমা সুলতানা রিমা। তিনি অফারের আওতায় ঘরভর্তি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য উপহার হিসেবে পেয়েছেন। বিজয়ী আসমা সুলতানা রিমার পক্ষে তাঁর মেয়ে নাহিয়ান হাসান বিন্দু পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া ফ্রিজ কিনে অফারের আওতায় পুরস্কার লাভ করেন রূপক দাস।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ওয়ালটনের এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ক্রেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে ওয়ালটন নিয়মিত এমন আকর্ষণীয় অফার ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে আসছে।

জমকালো এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হলে উপস্থিত ক্রেতা ও অতিথিদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।




বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকা অনুদান জাইকার, হবে নতুন ল্যান্ডফিল

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকা অনুদান জাইকার, হবে নতুন ল্যান্ডফিল
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ অর্থে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ৫০টির বেশি আধুনিক যানবাহন এবং ল্যান্ডফিল পরিচালনার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নগরে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণেও সহযোগিতা করবে সংস্থাটি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নগর ভবনে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অনুদান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রামে আসবে। তাদের সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্লটে ১৮ একর এবং পাশের অন্য একটি প্লটে ১০ একর জমি রয়েছে।

জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া জানান, নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুতের জন্য নকশা ও প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে জাইকার কারিগরি সহায়তা দলের বিশেষজ্ঞরা চসিকের সঙ্গে কাজ করছেন।

বৈঠকে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন জাইকার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে চসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ল্যান্ডফিলগুলোর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নেও জাইকার কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন এবং জাইকার বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া ও প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত অনুদান ও কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে নগরের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে চসিক। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন অগ্রগতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।