বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চলছে হালদা লুট!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চলছে হালদা লুট!

বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চলছে হালদা লুট!
ছবি সংগৃহীত।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ‘ফিশারিজ হেরিটেজ’ হালদা নদী রক্ষার নামে চলছে অর্ধকোটি টাকার প্রকল্প। অথচ সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালেই হালদার বুক চিরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যে নদীকে রক্ষার কথা বলে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, সেই নদীকেই ক্ষতবিক্ষত করে উত্তোলিত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে নদীতীর সংরক্ষণ কাজে।

রোববার(১৪ জুন) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের হাড়িঘাটা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নদীতীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলমান। প্রকল্প এলাকা থেকে অল্প দূরত্বে হালদা নদীর ভেতরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই বালু সরাসরি প্রকল্প এলাকায় ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে দিন-রাত অবাধে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ চোখে পড়েনি। অথচ হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন বহু আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতীতে একই অপরাধে অভিযান, জব্দ ও জরিমানার নজির থাকলেও এখন প্রকাশ্যে ড্রেজার চললেও সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য শামশুল আলম ওরফে চিনিয়া মেম্বারের তত্ত্বাবধানে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই বালুই কিনে নিচ্ছে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগের বিষয়ে শামশুল আলম দাবি করেন, বালু উত্তোলনের স্থান আমার নিজস্ব জমি। তবে নদীর ভেতরে ড্রেজার পরিচালনার বৈধতা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কোনো নথি তিনি দেখাতে পারেননি।

প্রকল্পের ঠিকাদার ও মেসার্স রিলায়েন্স কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা স্থানীয় চিনিয়া মেম্বারের( শামশুল আলম) কাছ থেকে বালু কিনে নিচ্ছি। তারা কোথা থেকে বালু আনছে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।

পরিবেশবিদদের দাবী, প্রকল্পের টিকাদারের এমন বক্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর শামিল। সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর বৈধ উৎস নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকি কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা অবগত নই।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের কয়েকশ গজ দূরে দিনের পর দিন ড্রেজার চললেও যদি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা না জানেন, তাহলে প্রকল্প তদারকি আদৌ কীভাবে হচ্ছে?

হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, নদী রক্ষার নামে নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে মা মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে, জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে এবং ডলফিনের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।