আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে পটিিয়া পৌরসভায় ধীরে ধীরে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হতে শুরু করেছে। আগামী অক্টোবর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার পর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা ধরনের সামাজিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় আয়োজন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পৃথক দল (টিম) গঠন করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর উদ্যোগও নিয়েছেন অনেকেই। ফলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, পটিিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা মেয়র ও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ, পরিকল্পিত নালা (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক নগরসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী নির্বাচনে যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি) শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি, পটিয়া পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আলহাজ নুরুল ইসলাম সওদাগর, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবু তাহের, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম এবং ইসলামী ফ্রন্টের নেতা আলহাজ মোহাম্মদ আলী হোসাইনের নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
সম্ভাবনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হাজি মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। সবার সহযোগিতা নিয়ে আসন্ন পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় নিয়েছি। পৌরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি। আশা করি, পৌরবাসী উন্নয়নের জন্য আমাকেই বেছে নেবেন।”
সাবেক মেয়র ও পটিয়া পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ নুরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, “আমি অতীতেও পৌরবাসীর সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং সব সময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। পৌরবাসী যদি আমাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে আমি নির্বাচন করব। সবার দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আশা করি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।”
পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবু তাহের বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পটিয়া পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। ভবিষ্যতেও পৌরবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আশাকরি পৌরবাসী আমাকে মেয়র পদে নির্বাচিত করবেন।”
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, “গত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় আমি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলাম। পরিকল্পিতভাবে আমাকে পরাজিত করা হয়েছিল। পৌরবাসী আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। আশা করছি, পৌরবাসী তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে মেয়র পদে নির্বাচিত করবেন।”
ইসলামী ফ্রন্টের নেতা আলহাজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কাজ নিয়ে পৌরবাসীর পাশে ছিলাম। আগামী নির্বাচনে পৌরবাসীর সেবা করতে মেয়র পদপ্রার্থী হতে চাই। যোগ্যতার মাপকাঠিতে বিবেচনা করে এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় পৌরবাসী আমাকেই বেছে নেবেন বলে বিশ্বাস করি।”
এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তত বাড়ছে। কে হবেন পটিয়া পৌরসভার পরবর্তী মেয়র, কার হাতে থাকবে পৌরবাসীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের দায়িত্ব—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন, নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে পটিয়া পৌরসভার আগামী নেতৃত্ব।