বিশ্ব হাতি দিবসে বান্দরবানে সচেতনতা র‍্যালি ও আলোচনা সভা, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবার পেল ক্ষতিপূরণ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

বিশ্ব হাতি দিবসে বান্দরবানে সচেতনতা র‍্যালি ও আলোচনা সভা, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবার পেল ক্ষতিপূরণ

বিশ্ব হাতি দিবসে বান্দরবানে সচেতনতা র‍্যালি ও আলোচনা সভা, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবার পেল ক্ষতিপূরণ
ছবি সংগৃহীত।

‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে বিশ্ব হাতি দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক র‍্যালি, আলোচনা সভা ও হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি টংকাবতী এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন।

পরে বান্দরবান বন বিভাগের টংকাবতী রেঞ্জের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে হাতি সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা হীরামনির সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাং য়ং ম্রো (প্রদীপ) ও সহকারী বন সংরক্ষক রিটা আক্তার।

টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা রাফি-উদ-দৌলা সরদারের সঞ্চালনায় সভায় বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন উজাড়, হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে দিন দিন মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়ছে। হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ সংঘাত অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, হাতি দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আলোচনা সভা শেষে টংকাবতী রেঞ্জ এলাকায় হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারের মাঝে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। অতিথিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব চেক তুলে দেন।




নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা ডাক পেলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক জিয়াবুল হক

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা ডাক পেলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক জিয়াবুল হক
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইজারার দ্বিতীয়বারের মতো ডাক সম্পন্ন হয়েছে। এবার ইজারা পেয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিয়াবুল হক। এ পরিষদের প্রথম ডাক বাতিল হওয়ায় বুধবার পুনরায় এ ডাকের আয়োজন করেন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুব এলাহী। তিনি জানান, বান্দরবানের সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়ন পরিষদের হাট-বাজার, ঘাট ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ের জন্য দেওয়া ইজারার ডাক সম্পন্ন হয়েছে।

এ ইজারা ডাকের জন্য নানা শ্রেণি-পেশার ২৩ জন মানুষ দরপত্র জমা দেন। তবে ইজারা ডাকার সময় উপস্থিত ছিলেন ২২ জন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জিয়াবুল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা নুরুল আবসার সোহেল এবং তৃতীয় দরদাতা মোহাম্মদ কামাল।

প্রশাসক আরও জানান, প্রথম দরদাতা জিয়াবুল হক হাঁকিয়েছেন ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থাৎ দ্বিতীয়জন ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয়জন ৫৯ লাখ টাকা পর্যন্ত হেঁকেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে গত ১২ মে প্রথমবারের মতো ডাকের আয়োজন করা হয়। এতে রেকর্ডসংখ্যক ১৩৬ জন দরদাতা অংশ নেন। সে সময় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন উপজেলা সদরের নুরুল আবসার সোহেল এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন জাকের আহমদ। সেবার নুরুল আবসার সোহেল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং জাকের আহমদ ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথমজন ইজারা নেওয়া থেকে সরে দাঁড়ালে (সারেন্ডার করায়) দ্বিতীয়জন তা নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে সেই ইজারা বাতিল করে প্রশাসন। সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় টোল-ট্যাক্স আদায় কিন্তু বন্ধ হয়নি; সরকারি স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন নিজস্ব লোকবল দিয়ে খাস কালেকশন (সরাসরি আদায়) চালিয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে প্রকাশ্যে ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে পুনরায় এ ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান ইতু বলেন, "অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এ ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে।" আগেরবারের চেয়ে ৬০ লাখ টাকা কমে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "ইজারাদারেরা তাদের নানা সমস্যার কথা জানিয়ে ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি দর হাঁকেননি। ফলে বাধ্য হয়ে কম হলেও সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

এদিকে স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, এবার যিনি ইজারা পেয়েছেন তিনি উপজেলা ছাত্রদলের একাংশের আহ্বায়ক জিয়াবুল হক। আর আগের বার যিনি সর্বোচ্চ দর হেঁকেছিলেন, তিনি বিএনপি একাংশের জ্যেষ্ঠ নেতা নুরুল আবসার সোহেল।




লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি পুলিশের জালে

লামায় শিশু আরাফাত হত্যার ১১ মাস পর প্রধান আসামি পুলিশের জালে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুসকে (৩৯) দীর্ঘ ১১ মাস পর গ্রেপ্তার করেছে লামা থানা-পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আবদুল কুদ্দুস লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামা থানাধীন বৈল্যারচর এলাকায় বাদীর বসতঘরের সামনে মাচার ঢাসের সঙ্গে গলায় নেটের রশি পেঁচানো অবস্থায় শিশু আরাফাত হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ৯ জুলাই লামা থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

পরবর্তীকালে ময়নাতদন্ত, ডিএনএ প্রোফাইলিং ও চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ মতামতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির অ্যানাল সোয়াবে বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী, বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর চলতি বছরের ১১ জুলাই লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই মো. সালাহ উদ্দিন। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তে সহযোগিতা করেন এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া ও এএসআই প্রকাশ ঘোষ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আবদুল কুদ্দুস তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশা স্থানীয় একটি গ্যারেজে রেখে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানাধীন চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে আবদুল কুদ্দুস শিশুটিকে বলাৎকার এবং পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিজিবির অভিযানে ৩৯,৯২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২ জন আসামিসহ ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর ঘুমধুম বিওপির টহল দল এক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১১ আগস্ট ২০২৬ রাতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এফডিএমএন সদস্য কলিমুল্লাহ (২৫), পিতা: কবির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/১ এবং সিরাজুল মোস্তফা (২৪), পিতা: জাকির আহমেদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-০১, ব্লক-বি/২—এদের ৩৯,৯২৪ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, আটক আসামিদের বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে সীমান্তবাসীর মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।