বিরক্তি থেকে চড়, প্রাণ গেল ৩ বছরের হালিমার: আদালতে আসমার স্বীকারোক্তি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে তিন বছরের শিশু হালিমা আক্তার হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত আসমা। শিশুটির নিয়মিত যাতায়াত ও খেলাধুলার সময় ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিরক্ত হয়ে তাকে জোরে চড় মারেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চড়ের পর শিশুটি মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যায় এবং পরে মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ।
পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসমা উল্লেখ করেন, শিশু হালিমা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করত। সেখানে খেলাধুলার সময় কাপ-পিরিচ ভাঙচুর করত শিশুটি। এর আগে একবার তাকে ইটের গুঁড়াও ছুড়ে মেরেছিল। এসব ঘটনায় বিরক্ত হয়ে ঘটনার দিন হালিমাকে জোরে চড় মারেন তিনি। এতে শিশুটি মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যায়। পরে তার মাথায় পানি দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর পর ভয়ে মরদেহটি নিজ ঘরের আলনার এক কোণে লুকিয়ে রাখেন আসমা। রাতের আঁধারে মরদেহটি তাঁদের বাড়ির সামনে রেখে আসার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। তবে এর আগেই পুলিশ ওই বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ভূজপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে একই পরিবারের তিন সদস্য আওয়াল, তাঁর মেয়ে আসমা ও ছেলে রবিউলকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসমা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দির পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হত্যার পুরো ঘটনা সম্পর্কে প্রধান অভিযুক্ত আসমা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি।
নিহত হালিমা আক্তার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা হিন্দুপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীনের মেয়ে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।
গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির আশপাশ থেকে নিখোঁজ হয় হালিমা। পরিবারের সদস্যরা দিনভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রাত ৯টার দিকে একই এলাকার প্রতিবেশী আওয়ালের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অন্য অভিযুক্তদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।











