বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান

বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ। একজনের গায়ে কোনো কাপড় নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নেই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। আপনাদের দলের নাটোরের এমপি বলেছেন, তাদের সফলতার পেছনে আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা রয়েছেন, আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দেবেন। নিজের দল বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিচ্ছেন। তারপর বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। এখানে ইঙ্গিত করে বলছেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, তাহলে আপনারা সরকারে এসেছেন কেন? এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? ঠেকাতে পারেন না কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।

জামায়াতের আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। কিন্তু কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দেবেন? কখন দেবেন? এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ।

তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফিরে আসছেন। তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটি লাউ কিনতে পারেন? ৪০, ৫০, ৬০ টাকা লাগে। ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই কর আপনাদের ওপর বসেছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে আসছিল বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার ওপর আপনারা লুটের ঝাঁপটা দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলে পড়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন। অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন? হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বোঝে।

জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, চাঁদা ও দখলদারি আপনাদের কাছে এতটাই মারাত্মক যে নিজেদের লোকেরাও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হন না। বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলেন, ‘হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়।’ আল্লাহই জানেন, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে তার দলের চাঁদা চেয়ে বসে কি না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ চলতে পারে না। এসব পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন? এত তাড়াতাড়ি লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত মারাত্মক অবনতি কেন?

তিনি বলেন, আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব খুবই পারদর্শী লোক, সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়, শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখার সুযোগ পান না। সংসদে দাঁড়িয়ে তার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক বন্ধ হবে কীভাবে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে ধোঁকা দেওয়ার পথ পরিহার করে আপনার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকে মনোযোগ দিন। তা না হলে সরে দাঁড়ান।

জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি।

তিনি বলেন, জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। সেটি হবে গর্বের। আমাদের নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করেননি। আমরাও করব না, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, প্রিয় জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রথম লংমার্চ হয়েছে। এর আগে ভারত নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই। যে লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই, সেটি নিয়ে এত পেরেশানি কেন? সাড়া আছে কি না, জনগণই তার সাক্ষী। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিশৃঙ্খলায় আমরা বিশ্বাস করি না। কেউ যেন আমাদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন।

তিনি আরও বলেন, আজনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।




জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে এবং তা প্রমাণিত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে— এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ একটি অপপ্রচারকারী দল, তাদের সঙ্গে আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে। এই দুই দলের আচরণ একই।’

তিনি বলেন, ‘অপপ্রচারে এই দুই দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কেউ টিকবে না।’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি বিচ্যুত হয়নি বলেও এ সময় দাবি করেন রিজভী।

দুর্গাপূজা উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার কারণে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার সফলভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব সম্পন্ন করতে পেরেছে।’

চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কোনও মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যান, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক এ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিনা পয়সায় ডেঙ্গু টেস্ট করতে সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউ যেন বিনা পরীক্ষায় হাসপাতাল থেকে ফেরত না যায়, তা এখন নিশ্চিত করতে হবে।’ 




সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত।

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, জানতে চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই প্রশ্ন তুলেছেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌঁড়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’ 




ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী

ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পরলে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে খাতায় না লিখলেও বাধ্যতামূলক পাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’ আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল। তখন গুণগত শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে শুধু পাসের হার (৯০-৯৫ শতাংশ) দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি খাতায় না লিখলেও পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর ওপর মহল থেকে ধমক দিয়ে বাধ্য করা হতো।’

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজকেই নিতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি উদাহরণ দেন যে, দাবি আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  বলেন, ‘বিএনপি সবসময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের অসাধারণ সমন্বয় করে এসেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে দল সচেতন। আমাদের দলের যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে শিক্ষক সমাজ কখনও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ প্রমুখ।