বাবুনগরে হেফাজতের বৈঠক: রূপরেখার আগে সাত ইসলামী দলের ঐক্যে জোর
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

বাবুনগরে হেফাজতের বৈঠক: রূপরেখার আগে সাত ইসলামী দলের ঐক্যে জোর

বাবুনগরে হেফাজতের বৈঠক: রূপরেখার আগে সাত ইসলামী দলের ঐক্যে জোর
ছবি সংগৃহীত।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আহ্বানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসায় কওমী ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইসলামি দলগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সম্মিলিতভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি সাজিদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, জাতীয় স্বার্থ, ইসলামি শক্তির পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই আলোচনা হয়েছে। তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সাতটি ইসলামি দলের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে ঐক্যের কাঠামো, রূপরেখা ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আরও আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়া সাতটি দল হলো: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে থাকা কয়েকটি কওমী ঘরানার দলকে ওই জোট থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর ইসলামি ঐক্যে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে এ বিষয়ে বৈঠক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত ঘোষণা না আসলেও রূপরেখার আগে সাত দলের ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্নে আলোচনা চলছিল। এর আগে বাবুনগরে হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বৈঠকে হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব মুফতি সাজিদুর রহমান, সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি খলিল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহফুজুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।