বান্দরবানে সিএনজি উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ১
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

বান্দরবানে সিএনজি উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ১

বান্দরবানে সিএনজি উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ১
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের চিম্বুক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মো. সাগর (২৮) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে চিম্বুক সড়কের বার মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাগর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হাগরিয়া এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মৌসুমি কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে তিনজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী পাহাড় থেকে পেঁপে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চিম্বুকের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বার মাইল এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের ঢালে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাগরের মৃত্যু হয় এবং তার সাথে থাকা অন্য একজন ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, “চিম্বুক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একজন ব্যবসায়ী নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
 




লক্ষ্মীছড়িতে দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের নতুন সেতুবন্ধন, সাঁকো বানাল সেনাবাহিনী

লক্ষ্মীছড়িতে দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের নতুন সেতুবন্ধন, সাঁকো বানাল সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্যাতলী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ছয়টি পাড়ার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৩০০ মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই পথ দিয়ে চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের পানির ছড়া পার হয়ে যাতায়াত করতে হতো। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে এ দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করত। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

বিশেষ করে দুল্যাতলী হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ফলে এখন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল অনেকটা সহজ হয়েছে।

দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে নির্মিত সাঁকোটি ছয়টি পাড়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাঁকোটি দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা বলেন, এটি একটি মহতী উদ্যোগ। পাহাড়ের মানুষ অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করেন। সেনাবাহিনী বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দেওয়ায় স্থানীয় মানুষের অনেক উপকার হয়েছে।

দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা এবং প্রয়োজনের তাগিদে বাজার কিংবা অফিসের জরুরি কাজে যাতায়াতকারীরা এখন আর পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে না।




ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণসমাবেশ ও মানববন্ধন

ভারুয়াখালীকে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণসমাবেশ ও মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে সদরের ভারুয়াখালীকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী ও ভারুয়াখালীর কৃতি সন্তান মোহাম্মদ নেজামুল হক।

তিনি বলেন, ভারুয়াখালীকে প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তি আমাদের ন্যায্য দাবি। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদেরকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে সিটি কর্পোরেশনের জুরিডিকশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত, উদ্বেলিত ছিলাম। কিন্তু ভারুয়াখালীকে বাদ দেওয়ার সংবাদে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, রামু উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকাকে সিটি কর্পোরেশনভুক্ত করা হলেও নানা সম্ভাবনাময়ী ভারুয়াখালী কেন আবহেলার শিকার? অথচ কক্সবাজার শহরসহ পুরো জেলার বিভিন্ন স্তরে এই এলাকাবাসীর অবদান রয়েছে।

এড. মোহাম্মদ নেজামুল হক বলেন, সিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মাননীয় এমপি লুৎফুর রহমান কাজল আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি। আশা করি ভারুয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে তিনি আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন।

মাওলানা মোঃ সায়েমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর নাজিমউদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল আলম, মাওলানা আব্দুল হাকিম সিদ্দিকী, এডভোকেট শওকত ওসমান, জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হোসাইন, দলিল লেখক মাহমুদুর রহমান, আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান সিকদার, মো. ফজলুল হক মেম্বার, মাস্টার শেফা উদ্দিন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা সৈয়দ নূর, বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল, এডভোকেট রেবেকা সুলতানা, এডভোকেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক জহিরুল হক, ব্যাংকের মোহাম্মদ নূর, এনজিওকর্মী মোঃ আব্দুল্লাহ, এডভোকেট শাফায়েত, ইঞ্জিনিয়ার রমিজুর রহমান, হাফেজ আব্দুস শুকুর, শাহীন চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার সদরের সমৃদ্ধ জনপদের মধ্যে অন্যতম এলাকা ভারুয়াখালী। লবণ, মৎস্যশিল্পসহ নয়নাভিরাম একটি গ্রামীণ জনপদ। প্রায় অর্ধ লক্ষ জনগণের বসতিপূর্ণ এই এলাকাকে সরকারের মহাপরিকল্পনার স্রোতে মেলাতে পারলে পাল্টে যাবে উন্নয়নের চিত্র।

সোমবার দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণ মিছিল শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সমৃদ্ধ ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করে এলাকার স্বতঃস্ফূর্ত জনতা।

তারা জানায়, প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর প্রাচীন গ্রামীণ জনপদ ভারুয়াখালী প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হলে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে সরকার।

ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তরের দাবিটি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে সরকারি সিদ্ধান্তেই সমৃদ্ধির সোপানে পৌঁছবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপদ প্রতিনিধিদের ভূমিকায় স্বপ্ন পূরণ হবে এলাকাবাসীর।
 




লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি

লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মিরপুর থেকে ছয় সদস্যের একটি পর্যটক দল থানচি উপজেলার বাঘের লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে যায়। ভ্রমণের একপর্যায়ে দলের সদস্য নাফিস মাশরুর ইসলাম (নজরুল ইসলাম), ঠিকানা পূর্ব সেনপাড়া পর্বতা দক্ষিণ, মিরপুর, ঢাকা—হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রায় এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির সহায়তা চাওয়া হয়।

পরিবারের অনুরোধের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিকের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্প থেকে একটি বিশেষ টহল দল দুটি নৌকাযোগে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় পৌঁছে অসুস্থ পর্যটকসহ তার সঙ্গীদের উদ্ধার করে। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলেই অসুস্থ পর্যটককে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা দেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ পর্যটকসহ দলের অন্য সদস্যদের নৌকাযোগে নিরাপদে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদগ্রস্ত পর্যটকের জীবন রক্ষায় দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় বিজিবির মানবিক ও জনসেবামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জরুরি প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে তারা। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।