বান্দরবানের খেয়াচল্যংয়ে ভুয়া জোত পারমিটে বন উজাড়ের অভিযোগ
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন

বান্দরবানের খেয়াচল্যংয়ে ভুয়া জোত পারমিটে বন উজাড়ের অভিযোগ

বান্দরবানের খেয়াচল্যংয়ে ভুয়া জোত পারমিটে বন উজাড়ের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার খেয়াচল্যং রেঞ্জে জোত পারমিটের আড়ালে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার মো. রাশেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অবস্থান না করা, একই হোল্ডিং বারবার ব্যবহার এবং সরেজমিনে গাছ যাচাই ছাড়াই পারমিটের কার্যক্রম সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলে তাঁর দায়িত্বকালে দেওয়া অনুমোদনগুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রাশেদুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ২০টি জোত পারমিট অনুমোদন করেছেন। খেয়াচল্যং রেঞ্জের অধীন ৩১৭ নম্বর ক্যাচলং ও ৩৪৯ নম্বর ঘেরাউ মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জোতের হোল্ডিং সীমিত এবং আগেও এসব মৌজায় জোত পারমিটের কার্যক্রম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। একই হোল্ডিং পুনরায় ব্যবহার করে গাছ কাটার কাগজপত্র তৈরি এমন অভিযোগও উঠেছে। 
সরেজমিনে পরিদর্শনে, খেয়াচল্যং রেঞ্জ কার্যালয়ের প্রধান ফটক ও কক্ষগুলো তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরিদর্শনের সময় সেখানে রেঞ্জ কর্মকর্তা কিংবা অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মীরা নিয়মিত রেঞ্জ এলাকায় অবস্থান করেন না; তাঁরা বান্দরবান জেলা শহরে থাকেন। 
দুর্গম বনাঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির এই অভিযোগ বন পাহারা ও কাঠ পরিবহন তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কার্যালয়ের উপস্থিতি রেজিস্টার, মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন বিবরণ এবং টহলের তথ্য পরীক্ষা করলে অভিযোগের বাস্তবতা স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, পাহাড়ি এলাকার দাঁড়ানো গাছ সরেজমিনে যাচাই ও পরিমাপ না করেই ‘এ-ফরম’ তৈরি করা হয়েছে। একই মৌজা ও হোল্ডিং বারবার ব্যবহার করে কাগজপত্র সাজানো এবং জেলা শহরে বসে খাড়া মার্কা ও পাস মার্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব কাজে ভূমি প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ লেনদেনের দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম কিংবা নির্দিষ্ট লেনদেনের প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
জোত পারমিটের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছ কাটার অনুমোদন নিয়ে সংরক্ষিত বনের কাঠ সরানো হয়েছে-এ অভিযোগের নিষ্পত্তিতে অনুমোদিত জমির অবস্থান ও মালিকানার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পারমিটে উল্লিখিত গাছের প্রজাতি, সংখ্যা ও পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবে কাটা এবং পরিবহন করা কাঠের হিসাব মেলানো প্রয়োজন। 
ভুয়া জোতের আড়ালে চম্পাফুল, গুটগুটিয়া, বৈলাম, গর্জন ও শিউরীর মতো শতবর্ষী মাদার ট্রি নিধন করার ফলে বনাঞ্চলের ক্যানোপি ধ্বংস হচ্ছে এবং এশীয় হাতি, মায়াহরিণ ও বিরল প্রজাতির উল্লুকের মতো বিপন্ন বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল স্থায়ীভাবে বিলীন হয়ে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে চরম সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এছাড়া নির্বিচারে পাহাড় ন্যাড়া করার কারণে বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক ঝিরি ও পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে গিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
রোয়াংছড়ির খেয়াচল্যং অঞ্চলের বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও ছাত্র সংগঠনের জোরালো অভিযোগ, ডেপুটি রেঞ্জার মো. রাশেদুজ্জামান সরকারি বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে এলাকার সহজ-সরল ও দরিদ্র আদিবাসীদের নাম ব্যবহার করে কৃত্রিম কাগজপত্র সাজিয়ে তাদের অধিকার হরণ করছেন এবং বাঙালি কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সাফ করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বন, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় এই বিতর্কিত কর্মকর্তার ৬ মাসে ইস্যুকৃত সকল জোত পারমিটের নথি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের মাধ্যমে অবিলম্বে তদন্ত করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও পরিবেশবাদী মহল।
এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে রাশেদুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি। 
 




বিকল্প পথে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরও এক চালান

বিকল্প পথে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরও এক চালান
ছবি সংগৃহীত।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রচলিত রুট ব্যবহার না করে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে চালানটি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী ৩টি লরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

এবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায় গাড়িবহর। ইউরেনিয়াম পরিবহনে এর আগে এই বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়নি।

ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত পুরো সড়কপথে বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

এ নিয়ে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৪টিসহ মোট ৫টি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম পরিবহনের গাড়িবহর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতো।

এ বিষয়ে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস মুঠোফোনে জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্পে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।




বিএনপি ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়: ফটিকছড়িতে সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপি ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়: ফটিকছড়িতে সালাহউদ্দিন আহমেদ
ছবি সংগৃহীত।

বিএনপি ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছিলেন। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে, তারা ইসলামের ধারেকাছেও নেই। নিজেদের ইসলামি দল দাবি করলেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামি শাসনব্যবস্থা বা শরিয়াবিস্তৃত আইন প্রতিষ্ঠার কথা নেই। মুখে এক কথা বললেও দলিল-প্রমাণে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করে তারা দেশে বিভক্তি সৃষ্টি করছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি দল ফ্যাসিবাদী কায়দায় আচরণ করে প্রমাণ করছে, তারাও দেশে শান্তি ও অগ্রগতি চায় না। সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আলেম-ওলামাসহ দেশের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনায় বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাঁদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

ফ্যাসিবাদে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী দল পালিয়ে যাওয়ার পর তারা দুঃখ প্রকাশ ও অনুশোচনা না করা পর্যন্ত দেশের মানুষ তাদের রাজনীতিতে ফিরতে দেবে না।

শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন এখন চলছে না। শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের, সেটি গঠন করা হয়েছে। এখন আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরির পেছনে স্বার্থান্বেষী শক্তির হাত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করা যাবে না।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন: সাবেক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির হিসাব জব্দের নির্দেশনা

শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন: সাবেক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তির হিসাব জব্দের নির্দেশনা
ছবি সংগৃহীত।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

তালিকায় বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক সংসদ সদস্য এবং দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের নাম রয়েছে বলে এনবিআরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) দেশের সব ব্যাংকে ই-মেইলে এ-সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, বিশেষ একটি কারণে সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে। তবে এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তালিকার বাইরে আরও ব্যক্তির নাম যুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা শতাধিক হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, তালিকায় থাকা অনেকের ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও জব্দ করা হয়েছে। সেই তালিকা প্রতিদিন হালনাগাদ করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন- এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

এছাড়া মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থ জোগানোর অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামে এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কিছু শিল্পমালিকও জড়িত বলে সরকারের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানান তিনি।