বন বিভাগের সুয়ালক ও বড়দোয়ারা স্টেশনে চাঁদাবাজি!

# বন রক্ষার বদলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
# চেকপোস্টে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে নির্ধারিত হারে টাকা আদায়
# সুয়ালক ও বড়দোয়ারা চেকপোস্ট ঘিরে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট
বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বন বিভাগের দুটি চেক স্টেশন যেন চাঁদাবাজির ল্যাম্পপোস্ট। বন রক্ষা নয়, বান্দরবান থেকে আসা বৈধ-অবৈধ কাঠবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় তাদের দৈনন্দিন কাজ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের বড়দোয়ারা চেকপোস্টগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট। নেতৃত্বে আছেন বিট কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল কাদের চৌধুরী। কাঠ-বাঁশ ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকরা এই অনিয়ম ও অতিরিক্ত টুলের নামে চাঁদাবাজিতে চরম অতিষ্ঠ। নিয়মবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গাছ পাচারে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিট কর্মকর্তা একটি চাঁদাবাজির রেটচার্টও করে রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বিট কর্মকর্তা বৈধ কাঠবাহী ট্রাক থেকে গাড়িপ্রতি সাত হাজার টাকা, জিপ গাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা, ফার্নিচারবাহী ট্রাক থেকে ছয় হাজার টাকা, জিপ বা ছাদের গাড়ি থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এছাড়া অবৈধ কাঠবাহী ট্রাক থেকে ২০ হাজার টাকা এবং জিপ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। আনুমানিক হিসেবে বিট কর্মকর্তা মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে থাকেন।
এদিকে বান্দরবান বন বিভাগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের মদদপুষ্ট ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ আবুল হোসেন গত ০৩ বছর যাবত বিধিবহির্ভূতভাবে বান্দরবান বন বিভাগে পোস্টিংয়ে আছেন। তিনি প্রায় ২ বছর সদর রেঞ্জে সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে থাকার পর সুয়ালক চেক স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। সদর রেঞ্জ হতে চেক স্টেশন এবং চেক স্টেশন থেকে সদর রেঞ্জে পোস্টিং না করার বাধ্যবাধকতা আছে। এ কারণে অনেকে তদবির করেও সদর রেঞ্জ হতে চেক স্টেশন ও চেক স্টেশন থেকে সদর রেঞ্জে আসতে পারেন না। কিন্তু ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১ বছর যাবত সুয়ালক চেক স্টেশনের এসও হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সুয়ালক চেক স্টেশনে ১ দিন অবস্থান না করেও পারি দিলেন ১ বছর। প্রতিদিন তার বনজদ্রব্যের গাড়ি চেকিং করার নিয়ম থাকলেও তিনি ফরেস্ট গার্ড দিয়ে চেকিং করান, চলাচল পাশে স্বাক্ষর করেন ফরেস্ট গার্ড। মাঝে মধ্যে তিনি স্টেশনে গিয়ে টাকার ভাগ নিয়ে আসেন। আবুল হোসেন বান্দরবানেও থাকেন না, নিজ শহর কুমিল্লা ও ঢাকাতেই অবস্থান করেন। ছুটি নেওয়ার ধারও ধারেন না। তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলে বেড়ান, তার আত্মীয় মন্ত্রী, তার ভাই সচিব, তার ভাই বন বিভাগের বড় অফিসার, তার আত্মীয় ম্যাজিস্ট্রেট। ডিএফও, সিএফ গোনার তার টাইম নাই।
তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সুয়ালক চেক স্টেশনে অবৈধ বনজদ্রব্যের গাড়ি আটক করার সরকারি নিয়ম থাকলেও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো গাড়ি আটক করেননি। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মোটা টাকার বিনিময়ে, আমার কাজ গাড়ি পাস করা আর টাকা আদায় করা। তিনি রাতের আঁধারে কর্তন নিষিদ্ধ চম্পাফুল, গোদা, গুটগুটিয়া, গর্জন, শিউরীসহ মূল্যবান কাঠের গোল, রদ্দা ও চিড়াই কাঠের গাড়ির লাইন দেন। গাড়িপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তিনি নিয়ে থাকেন। টিপির গাড়ি ফ্রি থাকলেও অবৈধভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ও কোনো কোনো গাড়িতে অবৈধ কাঠ নেওয়ার চুক্তিতে গাড়িপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেন। প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন। কথিত আছে, তিনি অবৈধ চাঁদার ভাগ ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নিয়মিত পৌঁছে দেন।
২ মাস পূর্বে বান্দরবান বন বিভাগ হতে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে বদলি হলেও তিনি এখনও সুয়ালক চেকপোস্টে বহাল তবিয়তে আছেন। আবুল হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জারের শক্তির কাছে বন বিভাগ হেরে যাচ্ছে।










