বন্ডবাজারে বিক্রির হিড়িক, সুদ-ঋণ-মূল্যস্ফীতিতে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

বন্ডবাজারে বিক্রির হিড়িক, সুদ-ঋণ-মূল্যস্ফীতিতে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

বন্ডবাজারে বিক্রির হিড়িক, সুদ-ঋণ-মূল্যস্ফীতিতে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
ছবি সংগৃহীত।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা এবং দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা; এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে বন্ডবাজারে বড় ধরনের বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে । এর ফলে পরিবার ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্ডবাজারের এই পরিস্থিতি ইউরোজোন ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

সরকারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধির ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ নেই। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মত যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জাপানেও সরকারি বন্ডের ইল্ড কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মার্কিন অর্থনীতিতে। একই সময়ে ব্যক্তিগত আয় ও ভোক্তা ব্যয়ের সূচকগুলো নির্দেশ করছে যে, মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, দেশটির অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ব্যয়ের সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী। এর ফলে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের  (ইল্ড) বেড়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতি আরও কঠোর হতে পারে-এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়েছে।


বিশ্বব্যাপী ঋণ নেওয়ার খরচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সব ধরনের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় ৯০ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। এক শতাব্দীর মধ্যে কোনো এক প্রান্তিকে এটি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি।

এদিকে, অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আবারও নীতিগত সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ক্রমাগত বন্ড বিক্রি করছেন। অর্থনীতিবিদগণও মার্কিন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উত্তাপের (ওভারহিটিং) লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের শ্রমবাজারের প্রতিবেদন শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত হওয়ার কথা। এবার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।


বন্ডের ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় ৩০ বছর মেয়াদি সবচেয়ে প্রচলিত গৃহঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুর পর এই প্রথম এটি ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোতে ঋণের সুদ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে মোট বিনিয়োগকেও ছাড়িয়ে গেছে।


এক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে তেলের দাম বাড়ছে যা মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপের সঙ্গে বাড়ছে সুদের হার। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঋণসংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ছাড়া প্রায় সব দেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়েছে।

এছাড়া, ঋণ বৃদ্ধিতে কাঠামোগত ভূমিকা রাখছে এআই খাতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিনিয়োগ। চলতি বছর এআই খাতের পাঁচটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করতে ২২০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। ঋণের চাহিদা বাড়তে থাকায় সুদের হার আরও উর্দ্ধমুখী হচ্ছে।


বাজারে তারল্য বাড়াতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচির আকার অন্তত দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাজারের তারল্য কিছুটা সমর্থন পেলেও বন্ড বাজারের ওপর চাপ কমানোর জন্য শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ যথেষ্ট হয়নি।

তবে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে মার্কিন অর্থনীতির সামগ্রিক শক্তিশালী অবস্থাকে আড়াল করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা যখন উচ্চতর সুদের হার দাবি করছেন, তখন সরকারগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং অতিরিক্ত ব্যয় কমানো প্রয়োজন।


বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তেলের দাম কমলে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে ঋণের খরচ স্থায়ীভাবে কমাতে হলে সরকারগুলোকে ঋণের পরিমাণ কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কেসিএম ট্রেডের গ্লোবাল চিফ মার্কেট অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটেরার বলেন, তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না এলে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমাধান না হলে বন্ডের ইল্ড উচ্চই থাকবে। তার মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ ইউরোপের ভঙ্গুরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।


আইএনজি গ্রুপের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ ফ্রান্সেসকো পেসোলে বলেন, প্যারিসের বাজেট ঘোষণায় কাঠামোগত ঘাটতি সমাধানের বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না থাকায় ফ্রান্স ও জার্মানির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ডের ব্যবধান ১৩০ বেসিস পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই ব্যবধান আরও বেড়ে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ডবাজারের অস্থিরতা ইউরোর ওপরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে। ইউরো-ডলারের বিনিময় হার এখন পর্যন্ত তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বন্ডবাজারের এসব পরিবর্তনের প্রতি ইউরোর সংবেদনশীলতা আরও বাড়তে পারে।




সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ছবি সংগৃহীত।

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার দেশে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।




কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব
ছবি সংগৃহীত।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠায়। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএফআইইউর পাঠানো ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) এবং হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তার নামে থাকা হিসাবগুলোর কেওয়াইসি ও হিসাব বিবরণীর সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএফআইইউর পাঠানো এক্সেল ফাইলে তার হিসাবসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চিহ্নিত প্রতিটি হিসাবের সুদ আয় ও উৎসে কর (টিডিএস)-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তলবের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলেও বিএফআইইউর ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএফআইইউর একটি পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে তলব করা তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। দুর্বৃত্তরা তার কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির প্রথমে অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। তবে পরে তিনি জানান, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।




নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো যাবে

নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো যাবে
ছবি সংগৃহীত।

বাংলা কিউআর স্ক্যান করে আগামী ১ নভেম্বর থেকে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে (পি-টু-পি) টাকা পাঠাতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানসহ পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার গত কয়েক মাসে দ্রুত বেড়েছে। গত জুনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন হতো। তখন লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।

মার্চেন্টের হিসাবে টাকা জমা হবে তাৎক্ষণিক

বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে ১ অক্টোবর থেকে কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

একই দিন থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ কমবে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের বিনা খরচে অথবা কম খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।

ছোট লেনদেনে প্রণোদনা

বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবাদাতাদের মধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যর্থ হলে দ্রুত টাকা ফেরত

বাংলা কিউআরে লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া লেনদেন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলা কিউআর লেনদেন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি, স্কুলের বেতন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধে বাংলা কিউআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালু হলে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেন কমবে। একইসঙ্গে নগদ টাকা ও ভাংতির সমস্যাও কমবে।

বাংলা কিউআরকে নিরাপদ, সহজ, কম খরচের ও আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাংলা কিউআরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কিউআর ব্যবহার করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেটি ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে।