ফটিকছড়ি হাসপাতালে ১০ দিনে ৮৭ স্বাভাবিক প্রসব

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১০ দিনে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৮৭টি নবজাতকের জন্ম হয়েছে। জন্মের পর মা ও শিশু সুস্থ থাকায় হাসপাতাল ছাড়ার সময় স্বস্তি ও আনন্দ দেখা গেছে পরিবারগুলোর মুখে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে সিজারিয়ান প্রসবের হার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। প্রসূতি মায়েদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং দক্ষ সেবার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।
রোসাংগিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে রাতে হাসপাতালে এসেছিলাম। শুরুতে কিছুটা ভয় ছিল। তবে চিকিৎসকদের সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে আমাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিয়েছে। মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছে। হাসপাতালের সেবায় আমরা সন্তুষ্ট।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৮২৮টি শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৩১। গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৯ হাজার নবজাতকের জন্ম হয়েছে এই হাসপাতালটিতে।
প্রসূতি বিভাগের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভাত দেবী বলেন, নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। হাসপাতালে অ্যান্টেনাটাল কেয়ার (এএনসি), পোস্টনাটাল কেয়ার (পিএনসি) এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেবাও দেওয়া হয়। নবজাতকদের কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
শিশু স্বাস্থ্য কনসালট্যান্ট ডা. মো. জয়নাল আবেদীন মুহুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জন্ম নেয়েছে ১৭টি নবজাতক। তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাদের সবাই সুস্থ রয়েছে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে। সরকারি হাসপাতালের সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়লে স্বাভাবিক প্রসবের হারও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক প্রসবকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য হাসপাতালটি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘গত ১০ দিনেই ৮৭টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। এটি হাসপাতালের সেবার প্রতি মানুষের আস্থা ও সক্ষমতার প্রতিফলন।’
প্রসূতি সেবায় ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো নিরাপদ প্রসবের মাধ্যমে মা ও নবজাতককে সুস্থভাবে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।








