ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান, এক কাতারে সরওয়ার-আজিমউল্লাহ্
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন

ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান, এক কাতারে সরওয়ার-আজিমউল্লাহ্

ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান, এক কাতারে সরওয়ার-আজিমউল্লাহ্
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব ও অভ্যন্তরীণ মতভেদ ঘুচিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমউল্লাহ্ বাহার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শীর্ষ এই দুই নেতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ফটিকছড়ি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এই দুই নেতাকে একসঙ্গে দেখা যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, "আমি সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এখানে এসেছি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল আজিমউল্লাহ্ বাহারের নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফটিকছড়িতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।"

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমউল্লাহ্ বাহার বলেন, "অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি ভুলে আমরা এখন একই লক্ষ্যে অবিচল। একসময় আমাদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দল এখন সরওয়ার আলমগীরকে বেছে নিয়েছে। আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করেছি। এখন আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই; লক্ষ্য একটাই—ফটিকছড়িতে দলের বিজয়।"

মিলাদ মাহফিলে উপজেলা বিএনপির সদস্য জহির আজম চৌধুরী, বিএনপি নেতা সরওয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম তালুকদার, অ্যাডভোকেট আবছার উদ্দিন হেলাল, হোসাইন আহমদ মিয়াজী, শহীদুল আজমসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, শীর্ষ নেতাদের এই মিলন ও কোলাকুলির মধ্য দিয়ে ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটল।
 




আমন্ত্রণ না পেয়ে ফটিকছড়ি ক্রীড়া সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদল নেতা মুন্নার

আমন্ত্রণ না পেয়ে ফটিকছড়ি ক্রীড়া সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদল নেতা মুন্নার
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করা এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে সংস্থাটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব প্রকৌশলী বেলাল উদ্দিন মুন্না।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্ট্যাটাসে বেলাল মুন্না অভিযোগ করেন, ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ফটিকছড়িতে নতুন কুঁড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়নি। কয়েক দিন আগে নতুন কুঁড়ি উপলক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি কিংবা অবহিত করা হয়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থার কোনো সভাও আহ্বান করা হয়নি।

মুন্না তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, গত বছর নতুন কুঁড়ি আয়োজনেও তাঁর যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার প্রত্যাশা করেছিলেন। তাঁর মতে, রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গন একসঙ্গে চলতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াপ্রেমী হতে হবে।

স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্রীড়া তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তাঁকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে না। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ঘোষিত ‘ক্রীড়া হবে পেশা’ স্লোগান বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও জানান।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মহিনউদ্দিন বলেন, "মুন্না ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম সদস্য। তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানো একটি ভুল হয়েছে। সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সাইফুল ইসলাম নামে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভুলবশত তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, "সদস্যসচিব বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে সহজেই সমাধান হয়ে যেত। হয়তো ভুলবশত তাঁকে জানানো হয়নি। সদস্যদের তো নিজেরা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার কথা। এ নিয়ে অভিমান করা ঠিক নয়। শিগগিরই ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হবে। নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিলে ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে আশা করছি।"




মানুষটি নেই, রয়ে গেছে স্বপ্ন; কবরের পাশেই হচ্ছে জামে মসজিদ

মানুষটি নেই, রয়ে গেছে স্বপ্ন; কবরের পাশেই হচ্ছে জামে মসজিদ
ছবি সংগৃহীত।

বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন লিয়াকত আলী মুন্সি—এলাকার মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য নির্মাণ করবেন একটি সুন্দর জামে মসজিদ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজের সামর্থ্য থেকে দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরু উদ্দিন নুরুর হাতে। কিন্তু মসজিদ নির্মাণ শেষ দেখে যেতে পারেননি তিনি; এক মাস আগে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। তবে মানুষটি না থাকলেও রয়ে গেছে তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন নুরু উদ্দিন নুরু।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ফেনুয়াবিল পূর্ব টিলা পাড়ায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ইবাদতখানার স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন জামে মসজিদ। প্রয়াত লিয়াকত আলী মুন্সির স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কাশেম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরু উদ্দিন নুরু, মোহাম্মদ সাইফু উদ্দিন মানিক, মোহাম্মদ বাহাদুর, মোহাম্মদ ইলিয়াছ কোম্পানি, আক্তার সওদাগরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, “লিয়াকত আলী মুন্সি একটি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু আয়ু তাঁকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়নি। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন যুবদল নেতা নুরু উদ্দিন। এ উদ্যোগের জন্য তাঁকে শুভকামনা জানাই।”

নুরু উদ্দিন নুরু বলেন, “মুন্সি সাহেব আমাকে খুব মূল্যায়ন করতেন, স্নেহ করতেন। তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে গেছেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, এক মাসের মধ্যেই মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করব।”

মসজিদ নির্মাণে প্রয়াত লিয়াকত আলী মুন্সির পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মানুষের জীবদ্দশায় দেখা স্বপ্ন তাঁর মৃত্যুর পরও অন্যের হাত ধরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। নতুন এই মসজিদ শুধু এলাকার মানুষের ইবাদতের স্থানই হবে না, হয়ে থাকবে লিয়াকত আলী মুন্সির একটি স্বপ্নের অমলিন স্মৃতিচিহ্ন।




সাইবার হুমকিতে কর্মস্থলে অনিয়মিত মানবিক চিকিৎসক, বিপাকে শত শত রোগী

সাইবার হুমকিতে কর্মস্থলে অনিয়মিত মানবিক চিকিৎসক, বিপাকে শত শত রোগী
ছবি সংগৃহীত।

পিতৃহীন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী। তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ২৫০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী। সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির পর তিনি হাসপাতালে অনিয়মিত। তাঁকে ফিরে পেতে চান রোগী ও সহকর্মীরা।

১৪ বছরের সাখাওয়াত হোসেন মাহিন। পাঁচ বছর বয়সে ধরা পড়ে থ্যালাসেমিয়া। সেই থেকে প্রতি মাসে তাকে রক্ত নিতে হয়। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক জীবন কাটানোর বয়সে নিয়মিত চিকিৎসা আর রক্ত নেওয়াই তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বাবা নেই। ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন মা বিলকিস আক্তার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না।

এই কঠিন সময়ে মাহিনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী। প্রতি মাসে মাহিনের রক্ত নেওয়ার জন্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়। ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতেন তিনি। পিতৃহীন শিশুটির চিকিৎসা যেন অর্থের অভাবে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন এই চিকিৎসক।

মাহিনের মা বিলকিস আক্তার বলেন, “ডা. জয়নাল স্যার আছেন বলেই মাহিনের চিকিৎসা করাতে পেরেছি। এখন তিনি হাসপাতালে আসেন না, তাই খুব কষ্টে পড়েছি। মোবাইল ফোনে তাঁর পরামর্শ নিয়েই মাহিনের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি।”

মাহিনের মতো অনেক রোগীর কাছেই ডা. জয়নাল মুহুরী শুধু একজন চিকিৎসক নন, ভরসার মানুষ। তাঁর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ২৫০ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন তিনি। এতে জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও সহযোগিতা করে।

কিন্তু সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে সেই চিকিৎসকই এখন কর্মস্থলে অনিয়মিত। তাঁর অনুপস্থিতিতে উদ্বেগে পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও স্বজনেরা।

গত ৭ সেপ্টেম্বর চাকরি ছাড়ার লিখিত আবেদন জমা দেন ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী। কর্তৃপক্ষ তাঁকে অব্যাহতি দেয়নি। আবেদনটি পুনর্বিবেচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে এরপর থেকে নিয়মিত হাসপাতালে আসছেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকেরা।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নেন। তাঁদের প্রায় ১০ শতাংশই শিশু। অর্থাৎ প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি শিশু আসে এখানে। উপজেলায় সরকারি পর্যায়ে শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে মূল ভরসা ছিলেন ডা. জয়নাল মুহুরী।

রোগী ও স্বজনদের কাছে তিনি পরিচিত একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হলেও তিনি সব ধরনের রোগী দেখতেন। মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শুনতেন, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিতেন না। অসহায় রোগীদের কখনো কখনো নিজের পকেট থেকেও আর্থিক সহায়তা করেছেন। এসব কারণে ফটিকছড়ির অনেক মানুষের কাছে তিনি ‘মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত।

করোনা মহামারির সময়ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন তিনি। একপর্যায়ে নিজেও আক্রান্ত হন। সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসেন রোগীদের কাছে।

মো. আলী নামের এক বাবা জানান, তাঁর শিশুসন্তান দীর্ঘদিন নানা অসুখে ভুগছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও ফল পাননি। পরে ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরীর চিকিৎসা নেন। মো. আলী বলেন, “এই ডাক্তারের চিকিৎসা আর ওষুধে আল্লাহ সন্তানকে সুস্থ রেখেছেন। আমি নামাজ পড়ে ওনার জন্য দোয়া করি, যেন তিনি ভালো থাকেন, এভাবে মানুষের সেবা করতে পারেন।”

শাকিলা জাহানও এসেছিলেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু ডা. জয়নালকে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, “উনি না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। উনার আচরণ খুব ভালো। আমরা চাই তিনি আবার স্বপদে ফিরে আসুন।”

রোগী ও সহকর্মীদের দাবির মুখে ডা. মুহুরীকে আবার নিয়মিত হাসপাতালে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল আলম।

তিনি বলেন, “মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তিনি উপজেলায় পরিচিত। এটা স্বাস্থ্যসেবার জন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণে তাঁর মতো একজন চিকিৎসক হেরে গেলে সেটা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন পুনর্বিবেচনার জন্য রেখেছে।”

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, “সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।” তিনি জানান, রোগী ও সহকর্মীদের অনুরোধের পর ডা. মুহুরী শিগগিরই তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ফিরবেন কি না, জানতে চাইলে ডা. জয়নাল আবেদিন মুহুরী বলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মী, রোগী আর অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী স্বপদে ফিরতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনো ভাবিনি। আশা করছি, একদিন সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”

একদিকে সাইবার বুলিং ও প্রাণনাশের হুমকির অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে রোগী ও সহকর্মীদের ফিরে আসার অনুরোধ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ডা. জয়নাল মুহুরী।