ফটিকছড়িতে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাট!

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সমিতিরহাট ইউনিয়নে এক দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুটের পর পুরো বাড়ি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ঘরে আটকা পড়া দুই নারী সদস্য কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সমিতিরহাট ইউনিয়নের ছাদেক নগর গ্রামের মোয়াজ্জেম কাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল সংঘবদ্ধভাবে দুবাই প্রবাসী রিদুয়ানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক ছিল। তবে কয়েকজনের মুখ খোলা ছিল, যা ঘটনাস্থলে ধারণ করা একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে দুর্বৃত্তরা বাড়ির আশপাশের কয়েকটি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে প্রতিবেশীরা হামলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ এগিয়ে এসে সহায়তা করতে পারেননি। এরপর গ্রাইন্ডার মেশিন দিয়ে দরজা-জানালা কেটে এবং হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের দেয়াল, দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
হামলার সময় প্রবাসীর মা রেনু আক্তার ও তাঁর স্ত্রী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে তাঁদের ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রাণভয়ে দুই নারী পাশের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে কৌশলে সেখান থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
রেনু আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, হামলাকারীরা আশপাশের ঘরগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে আমাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে ছুরি নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে এলে আমরা একটি কক্ষে আশ্রয় নিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। তারা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। এমনকি ঘরের ইটের দেয়াল পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, বুধবার ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং অবরুদ্ধ দুই নারীকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








