ফটিকছড়িতে সড়কে পড়ে রইল চামড়া
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে সড়কে পড়ে রইল চামড়া

ফটিকছড়িতে সড়কে পড়ে রইল চামড়া
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাজারে এবার ঈদের চামড়ার বাজারে দেখা গেছে চরম স্থবিরতা। ট্যানারি মালিক ও বড় পাইকারদের অনুপস্থিতিতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কে ফেলে চলে গেছেন মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। রাতভর অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা না মেলায় পুরো বাজারজুড়ে তৈরি হয়েছে হতাশা, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তা।

শুক্রবার সকালে বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও দোকানের সামনে সারি সারি গরুর চামড়া পড়ে আছে। কোথাও স্তূপ করে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। রাতের আঁধারে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে আসতে থাকেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরের মতো এবারও তারা আশা করেছিলেন, রাতে ট্যানারি প্রতিনিধি কিংবা বড় পাইকাররা এসে চামড়া কিনবেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো বড় ক্রেতার দেখা মেলেনি।

গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আনা ব্যবসায়ী মো. বেলাল বলেন, "অনেক কষ্ট করে চামড়া সংগ্রহ করেছি। ভেবেছিলাম ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বড় কোনো ব্যবসায়ীই নেই।"

আরেক ব্যবসায়ী মো. আজম বলেন, "সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে কেউ সেই দাম মানছে না। আমরা স্থানীয়ভাবে বেশি দামে চামড়া কিনেছি, এখন বিক্রি করতে না পেরে বিপদে পড়েছি।"

জানা যায়, প্রতি পিস গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে পরিবহন, লবণ ও শ্রমিক খরচ যোগ হয়ে ব্যয় আরও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

চামড়া ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, "চামড়া বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে ফেলে রেখে গেছে।"

চামড়া শিল্পে দীর্ঘদিনের সংকট, ট্যানারিগুলোর বকেয়া অর্থ পরিশোধে জটিলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতি বছরই প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফলে এবার অনেক কওমি মাদ্রাসাও চামড়া সংগ্রহ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাজার তদারকি ও সংগ্রহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে প্রতিবছর কোরবানির পর একইভাবে সড়কে পড়ে থাকবে হাজার হাজার টাকার চামড়া।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "সড়কে ফেলে যাওয়া অবিক্রিত চামড়াগুলো দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যবস্থাপনা করা হবে।"




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।