ফটিকছড়িতে বাঁশের বেড়া, বনজ গাছ রোপণ করে রাবার বাগানের জমি দখলের অভিযোগ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান এলাকার প্রায় ৮ একর লিজকৃত জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ৩/৮৬ নম্বর ব্লকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সৃজিত ৩০ একর পুনর্বাগানের অভ্যন্তরে রাবার গাছের চারার পাশ ঘেঁষে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে জমি দখল করা হয়েছে। এছাড়া একই ব্লকের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৃজিত পুনর্বাগানের আরও প্রায় ০.৭৫ একর জায়গায় বাঁশ ও বিভিন্ন বনজ গাছ রোপণ করে অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফটিকছড়ি পৌরসভার বাসিন্দা ওয়াহিদ কাউসার মওলা হিরু ও আমিনুল হক গংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে বাগানের লিজকৃত জমি দখল করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়াহিদ কাউসার মওলা হিরু। তিনি বলেন, এই জমিতে আমাদের পূর্বপুরুষ কয়েকশ বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যদি মনে করেন এটি সরকারি বা বাগানের সম্পত্তি, তাহলে আমরা নির্দ্বিধায় জায়গা ছেড়ে দেব। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির পক্ষে আমাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম বলেন, রাবার বাগানের লিজ নেওয়া জমিগুলো সরকারি গেজেটভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি অরক্ষিত থাকায় দখলের চেষ্টা হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ইতোমধ্যে দখলমুক্ত করা জায়গাগুলোতে চারা রোপণ করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। দখলদাররা জমিগুলো বন্দোবস্ত দাবি করলেও গেজেটভুক্ত সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








