ফটিকছড়িতে বন উজাড়: সর্তা বনের ‘নতুন রাজা’ মহসিন!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে বন উজাড়: সর্তা বনের ‘নতুন রাজা’ মহসিন!

ফটিকছড়িতে বন উজাড়: সর্তা বনের ‘নতুন রাজা’ মহসিন!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত সর্তা বনবিটে কয়েক বছর ধরে চলেছে ব্যাপক বন উজাড়। সামাজিক বনায়নের সেগুন ও গামারি গাছ থেকে শুরু করে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কয়েক দশকের পুরোনো গাছও কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মো. মহসিন নামের এক ইটভাটা মালিকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি চক্র এসব গাছ কেটে কোটি টাকার কাঠ পাচার করেছে। গত কয়েক বছরে সর্তা বনবিটের অন্তত ২০ একরের বেশি এলাকায় সেগুন বাগান উজাড় করা হয়েছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী বিভিন্ন প্রজাতির পুরোনো গাছও রয়েছে।

সম্প্রতি পূর্ব খিরাম ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে গাছ কাটার ঘটনা সামনে এসেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বনভূমির বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার পর পড়ে থাকা গুঁড়ি, ডালপালা ও খালি জায়গার চিহ্ন এখনো স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে কাঠ পরিবহন করা হলেও কার্যকর কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে গাছ কাটা হয়েছে। দিনের বেলায়ও ট্রাকে করে কাঠ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বন বিভাগের লোকজন সব জানতেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।”

সর্তা বনবিট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মো. মহসিন বনাঞ্চলের গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন। এ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বন আইনে দায়ের করা দুটি মামলা বর্তমানে বন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ওসমান আলীর নামও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলার পক্ষে কোনো নথিপত্র বা প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি।

আইনে বলা আছে, সংরক্ষিত বনে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা, বনভূমি দখল, আগুন লাগানো, কাঠ প্রস্তুত, শিকার কিংবা বনজ সম্পদের ক্ষতিসাধন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রয়েছে। বন (সংশোধন) আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ অ-জামিনযোগ্য।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব খিরাম এলাকার সুলতাননগর, তালুকদারের ঘোনা, প্যাঁচপেইচ্ছা ও বালুখালী এলাকায় সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রোপণ করা সামাজিক বনায়নের গাছও রক্ষা পায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছের একটি বড় অংশ স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহজাহানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি নানুপুর গামরীতলা এলাকার ‘পিবিএম’ ইটভাটাসহ বিভিন্ন ইটভাটায় এসব কাঠ ও ডালপালা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্তা বনবিট কার্যালয় থেকে মাত্র ২০০–৩০০ গজ দূরে দীর্ঘদিন ধরে গাছ কাটার মতো ঘটনা কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, সামাজিক বনায়নের একটি বাগান কাটার অনুমতি বা সহযোগিতার বিনিময়ে বিট কর্মকর্তাকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে অভিযোগটির পক্ষে কোনো লিখিত নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সর্তা বনবিটের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কয়েকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মহসিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো বার্তার কোনো উত্তর মেলেনি।

সর্তা বনবিট কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটার যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।”

হাটহাজারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “সংরক্ষিত বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বন বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সর্তা বনবিট থেকে কাটা গাছের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। তবে বনভূমির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং কাটা গাছের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।