ফটিকছড়িতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নেই, তবু বিল দ্বিগুণ!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নেই, তবু বিল দ্বিগুণ!

ফটিকছড়িতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নেই, তবু বিল দ্বিগুণ!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দিনের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন কাটছে। অথচ ঠিক এই সময়েই জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন অসংখ্য গ্রাহক। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কমলেও মে মাসের তুলনায় জুনে অনেকের বিল প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিল নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহকেরা।

গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়েও বাড়তি বিল সংশোধনের আবেদন জমা পড়ছে। অনেক গ্রাহকের প্রশ্ন, যখন দিনে-রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, তখন ব্যবহার না বাড়লেও বিল কীভাবে এত বেড়ে গেল?


পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র বলছে, ফটিকছড়িতে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৫০০ গ্রাহক রয়েছেন। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৩৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২ থেকে ২৪ মেগাওয়াট। অফপিক সময়েও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। এ কারণে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় ৩ থেকে ৪ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।


পাইন্দং এলাকার বাসিন্দা মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত মাসে আমার বিল ছিল ৮০০ টাকা, এবার এসেছে ২২০০ টাকা। অথচ আগের চেয়ে বিদ্যুৎ আরও কম পেয়েছি।


ফটিকছড়ি পৌরসভার বাসিন্দা ব্যাংকার এইচ এম নিজাম উদ্দিন  বলেন, আমার বিল ১ হাজার ১৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ০২৫ টাকা হয়েছে। এত বিদ্যুৎ ব্যবহারই করিনি।


সুয়াবিল বৈদ্যরহাট এলাকার এম আর আলমের বিল ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬৪ টাকা। নাজিরহাট পৌরসভার বাসিন্দা সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর বিল ১ হাজার ৮৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে।


সাবেক সরকারি কর্মচারী মুহাম্মদ আজগর আলী বলেন, তাঁর ভবনের অধিকাংশ ভাড়াটিয়া দিনের বেলায় বাসায় থাকেন না। তারপরও প্রায় সবার বিল বেড়েছে। তাঁর নিজের বিলও ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ১৫০ টাকায় উঠেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ব্যবহার না বাড়লে বিদ্যুৎ বিল বাড়ল কেন?


আবদুল্লাহপুর গ্রামের লতিফুর রহমান বলেন, এখন বিদ্যুৎ যাওয়ার চেয়ে আসার সময়ই কম। তারপরও বিল বাড়ছে। অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।


এদিকে, যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং চলছে, সেখানে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের বিল কীভাবে এত বেড়ে গেল? মিটার রিডিং, ট্যারিফ বৃদ্ধি নাকি অন্য কোনো কারণে এই অস্বাভাবিকতা - তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আলতাফ গহর চৌধুরী বলেন, প্রতি মাসে মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয়। ঈদুল আজহার ছুটি, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা এবং সরকার নির্ধারিত নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় অনেকের বিল বেড়েছে। তবে কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তা যাচাই করে সংশোধন করা হবে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।