ফটিকছড়িতে ত্রাণের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় সেনাবাহিনী

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এবার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে রোববার (১২ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প।
সকাল থেকে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নসহ আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সময়ে ইউনিয়নের খয়রাতিপাড়া, মহানগর ও দরগা শরীফ এলাকায় বন্যাদুর্গত ৮০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে এবং ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায় মেডিকেল ক্যাম্পটি পরিচালিত হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।
মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ সময়োপযোগী। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনী খাদ্য, চিকিৎসাসহ জরুরি সহায়তা দিয়ে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সেনাবাহিনী জানায়, দেশের যেকোনো দুর্যোগ, দুর্বিপাক ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে তারা সবসময় প্রস্তুত। চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বন্যার এই সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ বিতরণ এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে তাদের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।
মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।








