ফটিকছড়িতে তীব্র লোডশেডিং: আলোহীন রাতে ভেঙে পড়ছে পরিক্ষার্থীদের মনোবল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে তীব্র লোডশেডিং: আলোহীন রাতে ভেঙে পড়ছে পরিক্ষার্থীদের মনোবল

ফটিকছড়িতে তীব্র লোডশেডিং: আলোহীন রাতে ভেঙে পড়ছে পরিক্ষার্থীদের মনোবল
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। দৈনিক প্রায় ৪৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৩ মেগাওয়াট। ফলে দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলাজুড়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সদর এলাকা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ অধিকাংশ টিউবওয়েল ও পানির মোটর বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।

পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা শওকত হোসেন জানান, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। এতে গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন, রাতে স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে।

পৌরসভার বাসিন্দা এম আলী সিকদার বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ বন্ধ রাখতে হয়, ফলে আয় কমে যাচ্ছে। একই কথা জানান ফটিকছড়ি পৌরসভার টেইলার্স ব্যবসায়ী সুমন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সময়মতো কাপড় ডেলিভারি দিতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে তাঁদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

চলমান এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা যখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন বিদ্যুৎ সংকট তাদের পড়াশোনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাখিল পরীক্ষার্থী সাহেদ বলেন, রাতে পড়তে বসলে প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, পরীক্ষাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রসেনা। সংগঠনটির নেতারা বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত করছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) জোনাল অফিসের ডিজিএম আবুল বাশার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এলাকা পরিচালক ও চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (২)-এর সভাপতি মোঃ আরফান উল্লাহ চৌধুরী আপেল বলেন, গত মিটিংয়ে আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় সমস্যা বেড়েছে।

রাউজান জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আব্দুল গওহার চৌধুরী বলেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, তবে সার্বিক পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।