প্রেমের বিয়ের চার মাস পর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

প্রেমের বিয়ের চার মাস পর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে

প্রেমের বিয়ের চার মাস পর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে
ছবি: আটক স্বামী মোহাম্মদ হাসানকে (২৫)

আনোয়ারায় ফারিয়া সুলতানা ইমতি (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের পূর্ব বৈরাগ এলাকার আমিরের বাড়ি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী মোহাম্মদ হাসানকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত ইমতি উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকার আবদুল ছত্তারের মেয়ে। চার মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কে হাসানকে বিয়ে করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ঘরের দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে ঘরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ইমতিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, পরিবারের অমতে চার মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেকার। গত শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে অভিমান করে ইমতি ঘরের লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




আনোয়ারায় ১১ ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন পেতে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলেন ৩৬ জন

আনোয়ারায় ১১ ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন পেতে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলেন ৩৬ জন
ছবি সংগৃহীত।

স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলের প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শুরু করেছেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্দেশনায় শুরু হওয়া যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে গত শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ৩৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। উপজেলার কালাবিবি দিঘী মোরস্থ একটি কনভেনশন হলে সার্চ কমিটির আয়োজনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা নেতৃবৃন্দের কাছে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। এসময় যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মাস্টার মো. রফিক, সরওয়ার হোসেন মাসুদ, দিল মোহাম্মদ মনজু, জাগির আহমদ ও মনছুর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

জীবনবৃত্তান্ত জমাকৃতদের মধ্যে বৈরাগ ইউনিয়নে ৪, বারশত ইউনিয়নে ৫, রায়পুর ইউনিয়নে ২, বটতলী ইউনিয়নে ৬, বরুমচড়া ইউনিয়নে ১, বারখাইন ইউনিয়নে ১, আনোয়ারা সদর ইউনিয়নে ১, চাতরী ইউনিয়নে ২, পরৈকোড়া ইউনিয়নে ৫, হাইলধর ইউনিয়নে ৮ ও জুইদন্ডী ইউনিয়নে ১ জনসহ মোট ৩৬ জন প্রার্থী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। এসময় দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা তুলে ধরে দলীয় মূল্যায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রত্যাশীরা।

তাদরে মধ্যে বৈরাগে মো. মুছা, মামুন খান,মেহেদী হাসান চৌধুরী,সাব্বির আহমদ, বারশতে মঈন উদ্দিন,লেয়াকত আলী,মইয়ুম খান ছোটন, জাহাঙ্গীর আলম, রায়পুরে মাস্টার মোহাম্মদ রফিক ও মোহাম্মদ ইসমাইল বিন মনির, চাতুরী ইউনিয়নে জাগীর আহমদ ও এড. নুরুল কবির রানা, বরুমচড়ায় মো. সালাউদ্দিন সুমন, বারখাইনে গাজী মো. ফোরখান রয়েছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. নুরুল কবির রানা বলেন, দুঃসময়ে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম, আমার পারিবারিক ভাবেই চাতরী ইউনিয়নের মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থেকে সেবা দেওয়ার চেষ্ঠা করেছি, আশা রাখি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মাস্টার মো. রফিক বলেন, কেন্দ্রের আদেশ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্দেশনায় আমরা দলের সমর্তনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন ৩৬ জন প্রথম দিনে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছে। পরর্তীতে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সময়ে বাকীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে একাধিক ব্যক্তি জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলেও যাচাই-বাছাই শেষে জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি আনুগত্য, দুঃসময়ে দলীয় কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।




কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়তে হবে: এটিএম জাহেদ চৌধুরী

কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়তে হবে: এটিএম জাহেদ চৌধুরী
ছবি সংগৃহীত।

কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এতে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২০১৬ সালের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম জাহেদ চৌধুরী।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তবমুখী শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জন সম্ভব। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আধুনগর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. কায়েস উর রশিদ। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইউনুছ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লোহাগাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. এশফাক উদ্দিন ও সেলিনা আক্তার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক নজমুল কাদের মনুসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চা করতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে পারলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
 




আনোয়ারায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা: ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা, তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

আনোয়ারায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা: ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা, তদন্ত কমিটির কাজ শুরু
নিহত শিশু আয়ান

আনোয়ারায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ আয়ান (৮) নামের এক শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ এনে লাশ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা বিক্ষোভের পর অবশেষে ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোররাত চারটার দিকে সংক্ষুব্ধ পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সমঝোতা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ নিহত শিশুর পক্ষে ওই শিশুটিকে ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেট কারটির মালিক আবদুল মান্নান, স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ কাইয়ূম; নিহত শিশুর মামা মো. সাইফুল ইসলাম, আলী আব্বাস, ইলিয়াছ; হাসপাতালের পক্ষে ম্যানেজার মোহাম্মদ ইসমাঈল, পরিচালকদের মধ্যে হারুন ইবনে গনিসহ পাঁচজন প্রতিনিধি এবং থানা পুলিশের এক সদস্য।

বৈঠকে হাসপাতালের ম্যানেজার মো. ইসমাঈল নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে নিহত শিশুর স্বজনকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে নগদ দুই লাখ টাকা দেন এবং আরও তিন লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংকের একটি চেকে পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। বাকি আট লাখ টাকা পরিশোধের জন্য নিহত শিশুর স্বজনদের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্প নেওয়া হয়। টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে লাশ রেখে অবস্থানের পর বাড়িতে চলে যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গঠিত তদন্ত কমিটি আজ থেকে তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।

সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করে নিহত শিশুর মামা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকার চুক্তি হয়। তারা নগদ দুই লাখ টাকা দেন এবং পরবর্তীতে একটি চেক ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বাকি টাকাগুলো দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আমরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি এবং শুক্রবার রাত আটটার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করি।’

সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল (পিএলসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি যে ব্যক্তির গাড়িতে গুরুতর আহত হয়েছে, সেই ব্যক্তিও এখানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আমাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তারা হাসপাতাল ভাঙচুরসহ কর্মচারীদের মারধর করেন। হাসপাতাল রক্ষায় নিরুপায় হয়ে আমরা তাদের বৈআইনি দাবি মানতে বাধ্য হই। না হলে তারা সেদিন রাতে হাসপাতাল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাবি করা ২০ লাখ টাকার মধ্যে ১৩ লাখ টাকায় একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়ার পরই তারা লাশ নিয়ে বাড়ি চলে যান।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষকে সেবা দিতে এসে হুমকির মুখে পড়েছি। ডাক্তার ও দায়িত্বরত কর্মীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।’

বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোমেন কান্তি দেব বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-সমঝোতার বৈঠক হয়। নিহতের স্বজনরা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে লিখিত স্ট্যাম্পের সমঝোতাপত্র সই করে হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে যান।’

তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. জামশেদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকায় আমরা রোববার ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে সবার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত কাজ শুরু করব। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা দাবির বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার দায়ে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করা চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য: গত বুধবার বিকেল পাঁচটায় মো. আয়ান স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নানের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্বজনরা তাকে সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল (পিএলসি)-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আরমান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাত দশটার দিকে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এরপর স্বজনরা চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ এনে লাশ নিয়ে সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সমঝোতার পর লাশ দাফন করা হয়। নিহত আয়ান সাতকানিয়ার মোহাম্মদ আরফাত এবং বটতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপাতলী সাদেক আলী তালুকদার বাড়ির কুমকুম আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। পোশাকশ্রমিক কুমকুম স্বামী বিচ্ছেদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে বসবাস করছেন।