পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীর নামে মিথ্যা অপবাদের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

আনোয়ারায় এক প্রবাসী স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাঈমা সুলতানা (২৮)। এতে করে নাঈমা সুলতানা নিজের ১২ বছরের সংসার ও দুই সন্তানকে রেখে বাপের বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের মামুরখাইন এলাকার প্রবাসী মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে ১২ বছর আগে চাতরী ইউনিয়নের নাঈমা সুলতানের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
রোববার দুপুরে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “আমার প্রবাসী স্বামী মো. নজরুল ইসলাম (৪৩) দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করলেও তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন, এমনকি দেশে আসার খবরটিও আমাকে জানাননি। গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দেশে এসে রুমের মধ্যে আমাকে আটকে রেখে পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে সামাজিক বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে আমার বড় বোনের স্বামী মনসুর আলী, বড় ভাই সাইফুল্লাহ, স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য কামরুল নাহার, দিদার হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি সবার উপস্থিতিতে আমাকে পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ দেন। এ সময় এক কাপড়ে আমি ঘর থেকে সবার উপস্থিতিতে বাপের বাড়ি চলে আসি। আমার এক ছেলে ও এক মেয়েকেও সে রেখে দেয়। দেনমোহরের টাকা না দেওয়ার জন্য কিছুদিন পর আমার স্বামী আদালতে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করেন এবং আমি তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে পালিয়ে গেছি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
সামাজিক বৈঠকে থাকা ভুক্তভোগী নারীর বড় বোনের স্বামী মনসুর আলী বলেন, “সামাজিক বৈঠকে ডেকে আমাদের সকলকে অপমান করা হয়। ঘরের মধ্যে আটকে রাখা বোনকে আমরা সবার উপস্থিতিতে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর তারা এসব মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। সে কারো সাথে পালিয়ে যায়নি, সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে এসেছে।”
এদিকে এ বিষয়ে জানতে স্বামী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য কামরুল নাহার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী নজরুল ও নাঈমার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে নজরুলের বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য হিসেবে আমাকে তাঁদের ঘরে ডেকে নেন। এ সময় স্বামী-স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা দুজনই সংসার করতে ইচ্ছুক নন বলে জানান। তখন নাঈমা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাপের বাড়িতে চলে যান। এরপর কী হয়েছে তা আমরা জানি না।”








