পটিয়ায় পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধার দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ

পটিয়ায় অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামানা খাতুন নামের এক বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূও আহত হয়েছেন।
গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকখাইন গ্রামে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে বৃদ্ধা জামানা খাতুন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকখাইন জামে মসজিদসংলগ্ন একটি অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্য মো. হাসেমকে (৪৫) গালিগালাজ ও মারধর করেন। লাঠিসোঁটার আঘাতে তিনি আহত হন। পরে প্রাণভয়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বসতঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। গুরুতর আহত হাসেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরদিন ১১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ঘরের দরজা, জানালা ও টিন ভাঙচুর করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধা জামানা খাতুন ও তাঁর পুত্রবধূ ডেইজী আক্তারকে (২৮) গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।
জামানা খাতুনের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজনের ঘুষিতে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যায়। আরেকজন লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে হাত দিয়ে প্রতিহত করার সময় তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশে মারাত্মক চোট লাগে। এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বৃদ্ধা জামানা খাতুন বলেন, “সামান্য বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে দলবল নিয়ে হামলা করতে হবে? আমি এ হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে অভিযুক্তদের একজন নারগিছ আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই প্রথমে আমার অসুস্থ স্বামী ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে মারধর করেছেন। ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








