পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের

জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা যে ঘরটির, সেই ঘরই এখন নেই। জলাবদ্ধতায় মাটির ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে রিকশাচালক অপু বিশ্বাসের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন নিজের বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে রাত কাটছে তাঁর।
পটিয়া উপজেলার মধ্যম কালিয়াইশ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শোভনদণ্ডী এলাকার মৃত বিশ্বেশ্বর বিশ্বাস ও বীণাপাণি বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস পেশায় একজন রিকশাচালক। দিনভর রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। এর মধ্যে টানা জলাবদ্ধতায় তাঁর একমাত্র মাটির ঘরটি ভেঙে পড়ায় পরিবারটি হয়ে পড়েছে আশ্রয়হীন।
ঘর হারানোর পর কয়েক দিন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন অপু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটায় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে এখন কোনো ঘর নেই, নেই নিরাপদ আশ্রয়ও।
এলাকার বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, বর্তমানে বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে কোনোমতে রাত কাটাচ্ছেন অপু বিশ্বাস। রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো অপুর পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব।
মানবিক সংগঠক শফিকুল আলম বশর বলেন, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য অপুর বৃদ্ধ মাকে ঘিরে। ছেলের অসহায়ত্ব দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "বাবা, রাতে ঘুমানোর জায়গা নেই। আমার ছেলেকে একটা ঘর করে দে।" তিনি সরকার, বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে অপুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অপু বিশ্বাস জানান, জলাবদ্ধতায় ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরোবরে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি। স্থানীয় কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিও তাঁর পরিবারের পাশে এগিয়ে আসেননি বলে জানান তিনি।
প্রতিদিন রিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হন অপু। মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিলেও দিন শেষে নিজের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি। যে ঘরে ফিরে পরিবারের সঙ্গে রাত কাটানোর কথা, সেই ঘরটিই আজ তাঁর নেই।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অপুর প্রয়োজন বড় কোনো প্রাসাদ নয়; প্রয়োজন একটি ছোট ঘর, যেখানে বৃদ্ধ মা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাবেন। সারা দিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফেরা অপুও যেন বলতে পারেন, এটাই আমার ঘর, এটাই আমার ঠিকানা।









