নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের ‘পুনরুদ্ধার’ চান বিজেপির এমপি
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের ‘পুনরুদ্ধার’ চান বিজেপির এমপি

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের ‘পুনরুদ্ধার’ চান বিজেপির এমপি
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের (পিওকে) পাশপাশি বর্তমান বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চলও পুনরায় ভারতের দখলে আনার সময় এসেছে বলে দাবি করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন দল বিজেপির এমপি নিশিকান্ত দুবে।  

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু পিওকে’র পাশপাশি নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চল পাকিস্তানের কাছে ‘জোরপূর্বক হস্তান্তর’ করেছিলেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন নিশিকান্ত।

দুবের দাবি, এই তিনটি অঞ্চল এক সময় ত্রিপুরার (টিপরা) রাজ্যের অংশ ছিল।

গতকাল (শুক্রবার) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে বলেন, “এখন কেবল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের হাত থেকে পুনরুদ্ধারই নয়, বরং নেহরুজি যে অঞ্চলগুলো জোরপূর্বক হস্তান্তর করেছিলেন—সে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর বা সিলেট, যা-ই হোক না কেন—সেগুলোও ফিরিয়ে আনার সময় হয়েছে।”

তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং তার রাজ্য নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেহরুকে প্রশ্ন করেছিলেন উল্লেখ করে নিশিকান্ত দুবে বলেন, “নোয়াখালী, সিলেট ও ​​চট্টগ্রাম বন্দর—এই তিনটি অঞ্চল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ত্রিপুরা আগে 'টিপরা' নামে পরিচিত ছিল। এর রাজা বীর বিক্রম সিং ক্রমাগত নেহরুর সঙ্গে তর্ক করছিলেন এবং প্রশ্ন তুলছিলেন যে, তিনি কীভাবে তার রাজ্য নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন: আপনি কীভাবে নোয়াখালীকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে পারেন? কীভাবে সিলেটে গণভোট আয়োজন করতে পারেন? কীভাবে চট্টগ্রামে গণভোট করতে পারেন? এটি আমার রাজ্য। আমিই সিদ্ধান্ত নেব যে এটি ভারতের অংশ থাকবে, পাকিস্তানের অংশ হবে, নাকি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সর্দার প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠান এবং ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা ভারতের অংশ হয়ে ওঠে। মহারানি কাঞ্চন প্রভা ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে 'ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন' বা ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে ত্রিপুরা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।”

দুবে অভিযোগ করেন যে, ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে হিন্দুদের ওপর হওয়া সহিংসতার জবাব দেওয়ার পরিবর্তে পণ্ডিত নেহরু মুসলিম লীগকে নিজের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই হত্যাকাণ্ডে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হয়েছিলেন।

“নেহরুজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়, কিন্তু তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর; কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই মুসলিম লীগ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু করে”, বলেন

তিনি আরও বলেন, “১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর নোয়াখালিতে—যা ছিল হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা—হিন্দুদের ওপর এক ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়। মাত্র একদিনেই প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেখানে যাননি; বরং তিনি এই চিন্তাতেই ব্যস্ত ছিলেন যে, কীভাবে মুসলিম লীগকে তার সরকারের অংশ করা যায়।”

দুবে আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কারণেই পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মূলত চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাওয়ার কারণেই পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আজ যদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে পিছিয়ে পড়া মনে হয়, যদি সেখানে নানা সমস্যা থেকে থাকে, যদি আমরা সেখানকার খনিজ সম্পদ ও গ্যাসকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারি, আর যদি অঞ্চলটি এখনও বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়—তবে তার একমাত্র কারণ হলো, সেই বন্দরটি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এখন সময় এসেছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি এবং সিলেটকে পুনরায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার।”

সিলেটে গণভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাহারুল ইসলামকে কংগ্রেস পরবর্তীতে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল উল্লেখ করে দুবের প্রশ্ন, “নেহরুজি যেকোনো উপায়ে প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে ত্রিপুরার রাজা বা মহারানি যখন ভারতের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরায় যখন দীর্ঘ এক বছর ধরে সংগ্রাম চলল—তখন আপনারা কীভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও সিলেটের মতো হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে পাকিস্তানের হাতে (যা এখন বাংলাদেশ) তুলে দিলেন? আপনাদের এই অধিকার কে দিল?”

তিনি আরও বলেন, “যিনি সিলেটে গণভোট পরিচালনা করেছিলেন—সেই বাহারুল ইসলামের কথা জানেন কি? কংগ্রেস তাকে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল। রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন। হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর কংগ্রেস তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভার সদস্য করে।”

বাহারুল ইসলাম 'মুসলিম লিগ রেড আর্মি’-এর সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন নিশিকান্ত দুবে। এই বাহিনী নোয়াখালীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং চট্টগ্রাম দখল করা ও সিলেটে গণভোট (রেফারেন্ডাম) পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

“এখন সময় এসেছে ইতিহাস সংশোধন করার। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর যেমন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে, ঠিক তেমনই সময় এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নোয়াখালীকে পুনরুদ্ধার করার”, এএনআইকে

তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল  টিপরা মোথা’র প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা অভিযোগ করেছেন যে, “দেশভাগের সময় আমার ঠাকুমাকে অন্ধকারে রেখে তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের বিশাল অংশ পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল—এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়।”

ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান ও আলঙ্করিক রাজা মাণিক্য বলেন, “আজ যদি আমাদের সমুদ্রপথে প্রবেশের সুযোগ থাকত, তবে ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা থাকত না। তৎকালীন ভারত সরকারের এই কৌশলগত ভুল শুধু ত্রিপুরা বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলেরই নয়, বরং পুরো জাতিরই বড় ক্ষতি করেছে। আমাদের 'গ্রেটার টিপরাল্যান্ড'  আন্দোলনকে প্রায়শই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল অতীতের ঐতিহাসিক ভুলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোকে পুনরায় একত্রিত করা।”




মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিমি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নিলো ইরান

মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিমি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নিলো ইরান
ছবি সংগৃহীত।

নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক মিসাইলের সীমা বা রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটার রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। এরফলে এখন থেকে যেসব মিসাইল তৈরি করা হবে সেগুলোর রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটার থেকে বেশি থাকবে।

বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন।

তার কাছ থেকে এমন ঘোষণা আসল যখন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি কয়েকদিন আগে জানান, ইরানের ওপর নতুন করে যদি কোনো হামলা হয় তাহলে তাদের পাল্টা হামলা হবে ভৌগলিক সীমাবদ্ধতার বাইরে। অর্থাৎ হামলার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা মানা হবে না।

রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র বলেন, মিসাইলের রেঞ্জের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ইরান কথার বদলে বাস্তবে এটি করে দেখাবে।

ইরানের কাছে এখনই দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের মিসাইল আছে কি না বা অতীতে ছিল কি না সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি।

বর্তমানে যে দুই হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের সীমাবদ্ধতা সেটির আওতায় রয়েছে ইউরোপের গ্রিস ও বালকান অঞ্চলের কিছু অংশ। পুরো আরব উপত্যকা এবং মিসরের বেশির ভাগ অংশ। অর্থাৎ ইরান তাদের মিসাইল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পুরোটাতেই হামলা চালাতে পারবে। এ রেঞ্জ যদি বৃদ্ধি করা হয় তাহলে তাদের মিসাইলের আওতায় চলে আসবে অন্যান্য দেশগুলোও।

চলতি বছরের মার্চে ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল। যা ইরান থেকে চার হাজার কিলোমিটার দূরে। রেঞ্জেরও বাইরের অঞ্চলে মিসাইল নিক্ষেপ করায় ওই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, ইরান কি তাহলে আরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানার সক্ষম মিসাইল তৈরি করেছে কি না। যদিও দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ছোড়া তাদের দুটি মিসাইলই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের শঙ্কা, ইরান তাদের মহাকাশ পোগ্রামকে কাজে লাগিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করতে পারে।

সূত্র: এপি




ইরানের পরমাণু প্রকল্পের তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু প্রকল্পের তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং ব্যক্তিবর্গ (বিশেষ করে পরমাণু বিজ্ঞানী) সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে কেউ তথ্য দিলে সেই তথ্যদাতাকে পুরস্কার হিসেবে ২ কোটি ডলার দেবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, সেই তথ্যদাতাকে ‘নিরাপদ স্থানান্তরের’ সুযোগও দেওয়া হবে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় জানানো হয়েছে এ তথ্য। এক্সবার্তায় সেন্টকোম বলেছে. “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের (যেমন—বিজ্ঞানীদের) বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীকে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ও নিরাপদ স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (ন্যায়বিচারের জন্য পুরস্কার) কর্মসূচির আওতায় প্রদান করা হবে এই পুরস্কার ও পুনর্বাসনের সুযোগ।”

পৃথক এক বিবৃতিতে একই ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পুরস্কার ও স্থানান্তরের তথ্য প্রদানের পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, “জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা বিষয়ক বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে ইরানের ব্যর্থতার ফলে, সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটির কাছে থাকা তথ্যের ধারাবাহিকতা (কন্টিনিউটি অব নলেজ) বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।”

১৯৮৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক পুরস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ চালু করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ এই কর্মসূচির  উদ্দেশ্য হলো—এমন তথ্যের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা, যা মার্কিনিদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার যেদিন সেন্টকম এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিনিময়ে পুরস্কার ও পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে, সেদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের জন্য ওয়াশিংটন তেহরোনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ইরান ‘মরিয়া’ হয়ে আছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন বাহিনী কার্যকরভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যদি ইরানে আঘাত না করতাম, তবে আজ ইসরায়েল টিকে থাকত না। তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা ব্যবহার করত এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিত “

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর গত আট মাসে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে দাবি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, “আট মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী। আমরা এখন তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তারা খুব মরিয়া হয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।”

গত ০৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, তার সরকার এখনও আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তার আগে ১ নভেম্বর, অর্থাৎ চলতি মাসের প্রথম দিন ট্রাম্প বলেছিলেন, তাকে এখনও এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুর ব্যাপারে ‘ব্যবস্থা নিতে’ হবে—যার মধ্যে রয়েছে মধ্য ইরানে অবস্থিত তথাকথিত 'পিকাক্স পর্বত' । এটি একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক স্থাপনা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।

সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি




ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া, ব্যবহার করা যাবে হেলিকপ্টার থেকে

ইরানকে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া, ব্যবহার করা যাবে হেলিকপ্টার থেকে
ছবি সংগৃহীত।

ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। একটি রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের রফতানি চুক্তির গোপন নথির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা কেটিআরভি-র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভিম্পেল স্টেট মেশিন বিল্ডিং ডিজাইন ব্যুরো-র কিছু নথি হাতে পেয়েছে। যেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনের সময়সূচিতে ‘কে-১০’ কোডধারী ক্রেতার জন্য ৯০টি এপিইউ-এল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের অর্ডারের উল্লেখ রয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা নথিতে এই কোডটি ইরানকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া চীনের জন্য ১৯২টি এপিইউ-৩০৫ লঞ্চারের অর্ডারসহ সাতজন রুশ ক্রেতার নামও নথিগুলোতে রয়েছে।

রাশিয়ার এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী এই লঞ্চারগুলো ইজদেলিয়ে ৩০৫ নামক হালকা বহুমুখী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম, যা ১৪ কিলোমিটার (৮.৭ মাইল) দূরের চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডালাস অ্যানালিটিক্স এই নথিগুলো এফটি-কে সরবরাহ করে এবং পরে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরান পেয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কো তেহরানকে অস্ত্র, স্যাটেলাইট তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে মে মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোর দিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়া তেহরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ করছে না।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো-তেহরান সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার সুখই ৩৫ যুদ্ধবিমান, এমআই-২৮ হেলিকপ্টার ও ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছিল ইরান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, সুখই-৩৫ জেটের ক্রয় সম্পন্ন হলেও তা চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হস্তান্তরিত হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর ফোরামের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধের শুরুতে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভূমিকায় পুতিনের সমর্থনের প্রশংসা করেন।

সূত্র: আল-মনিটর