নাতির বিয়ের ঘর সাজাচ্ছিলেন দাদী, ফিরল কাফনে মোড়া লাশ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

নাতির বিয়ের ঘর সাজাচ্ছিলেন দাদী, ফিরল কাফনে মোড়া লাশ

নাতির বিয়ের ঘর সাজাচ্ছিলেন দাদী, ফিরল কাফনে মোড়া লাশ
ছবি সংগৃহীত।

যে ঘরে কয়েকদিন পর নতুন বউ উঠার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন শোকের মাতম। দেয়ালে রঙের কাজ চলছিল, আত্মীয়স্বজনেরা ব্যস্ত ছিলেন বিয়ের প্রস্তুতিতে। কিন্তু সব আয়োজন থামিয়ে দিয়ে সাদা কাফনে মোড়ানো অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন ওমানপ্রবাসী তরুণ মোহাম্মদ রায়হান। আর নাতির নিথর দেহ জড়িয়ে বুকফাটা আহাজারি করছিলেন শতবর্ষী দাদী রবিজা খাতুন।

ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের বাড়িটিতে শুক্রবার দুপুর থেকেই নেমে আসে শোকের ছায়া। ওমানপ্রবাসী যুবক মোহাম্মদ রায়হান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

বাড়ির উঠোনজুড়ে তখন স্বজনদের আহাজারি। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন শতবর্ষী দাদী রবিজা খাতুন। বারবার নাতির মুখ ছুঁয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “এঁন অইবু জানিলি ভাইয়ুরে আঁই ঘরত বাঁধি রাইখতাম, এঁহন আঁই কেনে বাঁইচ্চুম! (এমন হবে জানলে নাতিকে আমি ঘরে বেঁধে রাখতাম, এখন আমি কেন বেঁচে থাকি)।

স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই রায়হান দাদীর খুব আদরের ছিলেন। কোলেপিঠে করে বড় করেছেন তিঁনি। স্কুলে যেতে না চাইলে হাত ধরে নিয়ে যেতেন। বিদেশ যাওয়ার সময়ও চোখের পানি ফেলেছিলেন বৃদ্ধা দাদী। সেই নাতির লাশ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

পরিবার জানায়, রায়হানের মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মায়ের মুখ দেখতে প্রায় এক মাস আগে ওমান থেকে দেশে ফেরেন তিনি। পরিবারের ইচ্ছা ছিল এবার দেশে এসে বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন। সেই প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে। বাড়ির দেয়ালে নতুন রঙ করা হচ্ছিল, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তাও অনেকটাই চূড়ান্ত ছিল।

কিন্তু শুক্রবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সীতাকুণ্ডে বেড়াতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সীতাকুণ্ডের গফুর শাহ জামে মসজিদের দিকে মোটরসাইকেলে রওনা হন রায়হান। পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়হানের ফুফাতো ভাই আলমগীর বলেন, “প্রবাসে থেকে অনেক কষ্ট করছে। পরিবারের জন্য নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়েছে। মামি অসুস্থ হওয়ার পর সব ফেলে দেশে চলে আসছে। আমরা ভাবছিলাম এবার ওর সংসার হবে। কিন্তু এভাবে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি।”

মামাতো ভাই তারেকুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই খুব ভদ্র আর দায়িত্ববান ছিল রায়হান। বিদেশে থেকেও পরিবারের সব খোঁজখবর রাখত। দাদীর ওষুধ থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করত।”

শতবর্ষী রবিজা খাতুনের চোখে এখন শুধু নাতির শৈশবের স্মৃতি। তিনি বলছেন, “আঁর রায়হান ইস্কুলত ন যাইত, আঁই হাত ধরি ধরি লই যাইতাম।” আবার কখনো নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠছেন, “বিদেশত্তুন আইচ্ছি নাতি, আঁই কইলাম যে বউ আইন্নুম। হাইরে নাতি, বউ আঁর আনিত নপাইল্লাম।”

ঘরের এক কোণে এখনো পড়ে আছে রঙের বালতি আর তুলি। অসমাপ্ত দেয়াল যেন সাক্ষী হয়ে আছে একটি পরিবারের ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন তরুণের প্রাণই কেড়ে নেয়নি; কেড়ে নিয়েছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, অসুস্থ মায়ের শেষ ভরসা এবং এক শতবর্ষী দাদীর বেঁচে থাকার শেষ আনন্দটুকুও।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।