নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় এখনো শনাক্ত হয়নি কেউ
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় এখনো শনাক্ত হয়নি কেউ

নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় এখনো শনাক্ত হয়নি কেউ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের কারণে জানালার কাচ ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং হাসপাতাল এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইদানীং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বেড়েছে এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নানা পরিচয়ে এরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সার্বিক নিরাপত্তায় নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল প্রধান (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) ডা. মুহাম্মদ আবুল মনজুর জানান, গত শনিবার রাত ৯টার পরপরই হাসপাতালের ইউএইচএন্ডএফপিও-এর কার্যালয়ের পাশের জানালায় কে বা কারা ককটেল ছুড়ে মারে। এতে জানালার উত্তর পাশের একটি কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার সময় তিনি কক্ষে ছিলেন না। তবে হাসপাতালের অন্যান্য ভবনে রোগী ও স্বজনরা ছিলেন। বিকট আওয়াজ শুনে তারা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও পাহারারত আনসার সদস্যরা এসে কার্যালয়ের গ্লাস ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান।

ঘটনার স্থানটি অনেকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দেখতে পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর ডিউটি ছিল অন্য কর্নারে। আওয়াজ শুনে তিনিও দ্রুত ঘটনাস্থলে যান, তবে কাউকে দেখতে পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, ককটেল ছুড়ে মেরেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

সচেতন মহলের মতে, পাহারারত আনসারদের নিরাপত্তার ঘাটতি থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে এবং অপরাধ ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পেরেছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে, সে দিন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসারদের দলনেতা মুনির আহমদ ঘটনার সময় হাসপাতালের বাইরে ছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার দপ্তরে হামলা হলেও তিনি হামলাকারীকে প্রতিহত বা শনাক্ত করতে পারেননি, কারণ তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে কথা বলতে আনসারদের দলনেতা মুনির আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ৭ জন আনসার সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত করে, যারা শিফট অনুযায়ী (বাই-রোটেশনে) হাসপাতাল পাহারা দেন। তবে ককটেল নিক্ষেপের এ ঘটনাটি তারা আগাম আঁচ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, ককটেলসদৃশ বস্তু দিয়ে হাসপাতালের অফিস কক্ষে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন, যেখানে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।

একই সাথে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা চালাতে না পারে, সে জন্য পুরো উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিস মালিকবিহীন বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপির বিশেষ টহলদল। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মণ্ডলপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত ইয়াবা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ৩৪ বিজিবি।




রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা

রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মাসিক সভা করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রামগড় জোন সদরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি।

সভায় রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রামগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, হেডম্যান, কারবারি, কাঠ ব্যবসায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময়মতো অবহিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জোন কমান্ডার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের গুজব প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম ও রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম ও রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম এবং সীমান্তসংলগ্ন রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর সতর্কাবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে। ফলে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সীমান্ত জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ির ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-গাঁয়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দোছড়ি, ঘুমধুম ও সদরসহ আশপাশ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি কিছু ডেঙ্গু রোগীও শনাক্ত হয়েছে, তবে সে সংখ্যা তুলনামূলক কম।

সূত্র জানায়, বাইশারী, ঘুমধুম ও সোনাইছড়ির অধিকাংশ রোগী ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কক্সবাজার কেন্দ্রিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়ার একাংশের রোগীরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৩০ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫০ জন হাম আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১৯ অক্টোবর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৪ জনকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল মনজুর জানান, এলাকায় হাম ও ডেঙ্গুর উপদ্রব থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও দুটি বিষয়ের ওপরই বিশেষ নজরদারি ও সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভৌগোলিক সীমানা সংলগ্ন রামু উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ জেড এম সলিম জানান, এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে রামু উপজেলায় প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।