নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা অব্যাহত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা অব্যাহত

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা অব্যাহত
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ,পাহাড়ধসের ঝুঁকির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার ১০ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার ঘুমধুম, সোনাইছড়ি, দোছড়ি বাইশারী ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গতএলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ধসে ও পাহাড়ি দলের ঝুঁকিতে এবং পানিবন্দী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয় জরুরি ত্রাণ সামগ্রী।

এদিকে, ঘুমধম ও সদর ইউনিয়নের পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

এ সময় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে শুকানো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী সহায়তা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ শুরুর পর থেকে এ এই পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪০ প্যাকেট নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বাইশারী ইউনিয়ন ৭০ জনকে চাল বিতরণের পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ২ টন করে মোট ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

ইউনিয়ন পরিষদগুলো পর্যায়ক্রমে খাদ্য অফিস থেকে চাল গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

পরিদর্শন ও সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমত জাহান ইতু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান জানিয়েছেন,টানা বৃষ্টির কারণে গতকাল বাইশরীর মুইঅং পাড়ায় ধ্বসে পড়া ব্রিজটি বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম কোম্পানিকে পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জনসাধারণ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি কাঠের সেতু নির্মানের নির্দেশনা হয়েছে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।