নাইক্ষ্যংছড়িতে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের পুনর্বার টিকাদান শুরু
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের পুনর্বার টিকাদান শুরু

নাইক্ষ্যংছড়িতে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের পুনর্বার টিকাদান শুরু
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের পুনর্বার টিকাদান শুরু করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। হাম মোকাবিলায় সরকার সপ্তাহব্যাপী দেশজুড়ে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং বিভিন্ন বয়সের নাগরিকেদের মধ্যে যাঁরা হামে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে আসার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় নাইক্ষ্যংছড়িতে এখন পর্যন্ত কোনো পাড়ায় হামের মারাত্মক সংক্রমণ দেখা না গেলেও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে পাড়াভিত্তিক স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে (২৬ জুলাই রবিবার থেকে) মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তারা হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানোর কাজ পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) আবুল মনজুর বলেন, “সারাদেশের মতো নাইক্ষ্যংছড়ির পুরো উপজেলায় গত ২৬ জুলাই রবিবার থেকে পাড়াভিত্তিক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে, তাই মানুষের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পাড়াভিত্তিক খুঁজে খুঁজে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, পাশাপাশি আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে। কেউ হামে আক্রান্ত হলে আমাদের টিম সরাসরি বাড়িতে গিয়েও চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে।”




নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৬৫ কৃষকের পাশে দাঁড়াল কৃষি দপ্তর

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৬৫ কৃষকের পাশে দাঁড়াল কৃষি দপ্তর
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ১,৪৬৫ জন কৃষককে সহায়তা দিয়েছে উপজেলা কৃষি দপ্তর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়া কৃষিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষ করে পেঁপে চাষের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। অন্তত ২৭ একর জমির রোপিত ২০ হাজার পেঁপে গাছের চরম ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছ ইতিমধ্যে মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া লাউ, শসা, পুঁইশাক, কলমিশাক, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, চাল কুমড়া ও ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি কৃষি দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে।

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ জন কৃষকের মাঝে ৭ ধরনের সবজি বীজ (যেমন: লাউ, শসা, পুঁইশাক, কলমিশাক, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন ও চাল কুমড়া) এবং প্রতিজনকে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৭৩০ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা, জৈব সার ও খুঁটি বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি উপজেলার ২৩৫ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে উফশী আমন ধানের বীজ (জাত: বিআর২২) বিতরণ কার্যক্রম শেষের পথে।

স্থানীয় কয়েকজন পেঁপেচাষি জানিয়েছেন, উপজেলার প্রায় ৩০ একর জমির অন্তত ২০ থেকে ২২ হাজার পেঁপে গাছ ইতিমধ্যে মরে গেছে।

কৃষিবিদ এনামুল হক আরও বলেন, “নাইক্ষ্যংছড়ি কৃষি দপ্তর সবসময় কৃষকদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”




নাইক্ষ্যংছড়িতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, চোরাচালান প্রতিরোধে জোর আলোচনা

নাইক্ষ্যংছড়িতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, চোরাচালান প্রতিরোধে জোর আলোচনা
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মতবিনিময় ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফাইল আহমদ, বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম বাহাদুর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শাখার প্রতিনিধি ও সাবেক আমির রফিক আহমদ, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার প্রতিনিধি পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম (দৈনিক মানবজমিন), সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল (দৈনিক যুগান্তর), উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি জালাল উদ্দিন ফারুকী এবং সদস্য আলী আহমদ। এ ছাড়া সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ও কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  

সভায় বক্তারা উপজেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় চোরাচালানসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।  

এ সময় থানার প্রতিনিধি পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদ বলেন, “চোরাচালান ও অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।”

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) ও ৩৪ বিজিবির প্রতিনিধিরা জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এনামুল হাসান মাদক নির্মূল, সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। ইউএনও তাঁর বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণ সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।




বান্দরবান পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

বান্দরবান পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বাংলো, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত নির্মাণমান অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘থুই মং প্রু এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে।

গত ২১ জুলাই বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় ২১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সড়কের ঢালাই কাজ চলছে। সেখানে ঢালাইয়ের সময় কোনো ধরনের ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী পরিষ্কারের জন্য চালনি ব্যবহার না করায় মাটি ও ময়লা সরাসরি কংক্রিটের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। নির্ধারিত অনুপাত ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে দায়সারাভাবে কাজ চালানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আরসিসি ঢালাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করায় সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা জানান, বারবার প্রতিবাদ জানানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থুই মং প্রু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী থুই মং প্রু বলেন, “আরসিসি ঢালাইয়ে চালনি বা ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”

বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ঢালাইয়ের ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি থামার পর পলিথিন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম নাজিম উদ্দিন বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। যদি প্রাক্কলন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঢালাইয়ের দিন সকালে ভাইব্রেটর মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিকেলে মেশিন ছাড়াই ঢালাই কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অনিয়মের মাধ্যমে নির্মাণ করা হলে সামান্য বৃষ্টি কিংবা ভারী যানবাহনের চাপেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বান্দরবান পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।