নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম

নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম
ছবি সংগৃহীত।

দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনে বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ জেলায় নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকায় নিবন্ধন করেছে ৫৯ হাজার ৫৮০ জন। অর্থাৎ ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।

প্রতিযোগিতাটি নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়ব।

চট্টগ্রামে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনের পেছনে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয়দের আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং প্রচেষ্টার কারণেও নিবন্ধনে প্রভাব পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগের ভূমিকা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা ছিল—কে কত বেশি নিবন্ধন করাতে পারে।

চট্টগ্রামে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন ক্রীড়া সচিব। তার ভাষ্য, চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন রয়েছে। জাতীয় পর্যায়েও এ জেলা থেকে অনেক ভালো খেলোয়াড় উঠে আসেন।

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একাধিক সভা করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে সভা করা হয়।

ইউনিয়ন পর্যায়েও নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

আবদুল বারী বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়ে সময়ে দেওয়া নির্দেশনা নিবন্ধন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। নিবন্ধন বাড়ানোর কার্যক্রম প্রতিদিন চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাঠপর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ফেসবুকে প্রতিযোগিতার তথ্য প্রচার করা হয়। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরাও এতে যুক্ত হন। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য অফিসও প্রচারণায় সহযোগিতা করে।

এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।

জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে চট্টগ্রামের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। তৃতীয় স্থানে কুমিল্লা—সেখানে নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৮৪৮ জন। চতুর্থ স্থানে বরিশালে ৫১ হাজার ৫৮০ এবং পঞ্চম স্থানে পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন নিবন্ধন করেছে।

শীর্ষ ২০ জেলার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে দিনাজপুরে ৪১ হাজার ৬৯৯, সপ্তম স্থানে সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম স্থানে ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম স্থানে কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম স্থানে বগুড়ায় ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধন করেছে।

গত আসরে আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি যুক্ত করে মোট ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।




ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রামের পণ্যবাহী ট্রেন, রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে

ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রামের পণ্যবাহী ট্রেন, রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে
ছবি সংগৃহীত।

ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অনেকটা কমে গেছে। একসময় চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে প্রতিদিন একাধিক কনটেইনারবাহী ট্রেন ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) চলাচল করলেও এখন কোনো দিন একটি, কোনো দিন দুটি ট্রেন চলছে। অনেক সময় এক দিনেও কোনো কনটেইনারবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও রংপুরগামী তেলবাহী ট্রেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, গম ও সার পরিবহনকারী ট্রেনের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬০১, ৬০৩, ৬০৫ ও ৬০৭ নম্বর কনটেইনারবাহী ট্রেন দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় দিনে সর্বোচ্চ চারটি ট্রেন চলাচল করত। বর্তমানে এসব ট্রেনের সংখ্যা কমে দিনে এক থেকে দুইটিতে নেমেছে। অনেক দিন কোনো ট্রেনই চলাচল করে না।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন আগে সপ্তাহে দুটি চলাচল করলেও এখন মাসে একটিও নিয়মিত যাচ্ছে না। ৯৬১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে শ্রীমঙ্গল রুটে সপ্তাহে এক থেকে দুটি চলাচল করত। বর্তমানে মাসে মাঝে মাঝে একটি ট্রেন চলছে। আর ৯৮১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে রংপুরে সপ্তাহে একটি চলাচল করলেও গত তিন মাসে মাত্র একটি ট্রেন চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া রংপুর বিসি, দিনাজপুর বিসি ও তারাকান্দি বিসি নামে খাদ্য, গম ও সারবাহী ট্রেন এবং আশুগঞ্জ সাইলোগামী গমবাহী ট্রেনও নিয়মিত চলাচল করত। বর্তমানে ইঞ্জিন সংকটের কারণে এসব ট্রেনও প্রায় বন্ধ রয়েছে।

রেলওয়ের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল ২ হাজার ৭৭০টি থেকে কমে ১ হাজার ৪৬৭টিতে নেমেছে।

রেলওয়ের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কনটেইনার পরিবহন থেকে আয় হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৭৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন আয়।

এ নিয়ে টানা চতুর্থ বছর কনটেইনার পরিবহন থেকে রেলের আয় কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাত থেকে সর্বোচ্চ ১৩৫ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে আয় কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

পণ্য পরিবহনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রেলওয়ে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টন পণ্য পরিবহন করেছিল। গত অর্থবছরে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে ৭ লাখ ৩০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, চট্টগ্রাম-কামালাপুর রুটে পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১১টি ইঞ্জিন প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ইঞ্জিন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কনটেইনার ও তেলবাহী ট্রেনের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রেনের শিডিউলও ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সাইফুল রহমান  বলেন, পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে আমাদের ১০-১১টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। গত মাসের তুলনায় এ মাসে ইঞ্জিন কিছুটা বেড়েছে। এ মাসে আমরা চার-পাঁচটি করে ইঞ্জিন দিয়ে চালাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের (সিজিপিওয়াই) ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার  বলেন, ইঞ্জিনের সমস্যা রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় এখন অনেক ভালো রয়েছে। সিজিপিওয়াই থেকে এখন দুই-তিনটি কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করে। এতদিন ট্রেন চলাচল না করায় কনটেইনারের স্তূপ পড়ে থাকলেও এখন তা আর নেই।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য সীমিতসংখ্যক ইঞ্জিন বরাদ্দ দেওয়ার পরও যাত্রীবাহী ট্রেনে ইঞ্জিন বিকল হলে অনেক সময় ওই ইঞ্জিনও সেদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে পণ্যবাহী ট্রেনের শিডিউল আরও ব্যাহত হয়। ফলে রেলের গুরুত্বপূর্ণ আয়কারী পরিবহন খাতগুলোর একটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।

রেলওয়ের অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-কামালাপুর রুটে কনটেইনার পরিবহন রেলের অন্যতম প্রধান আয়কারী খাত। একটি কনটেইনারবাহী ট্রেন চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড থেকে ঢাকার আইসিডিতে গেলে রেলের প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অথচ ইঞ্জিন সংকটে এ ধরনের ট্রেন নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না।

রেলপথে পণ্য পরিবহন সড়কপথের তুলনায় সাশ্রয়ী হলেও সময়মতো ট্রেন না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সড়কপথে পণ্য পরিবহনে ঝুঁকছেন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ২০ ফুটের একটি কনটেইনার রেলে পরিবহনে খরচ প্রায় ৯ হাজার ৭০০ থেকে ১৬ হাজার ১০০ টাকা। সড়কপথে একই পণ্য পরিবহনে খরচ আরও বেশি।

ইঞ্জিন সংকটের প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনেও। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রয়োজনীয় ১৩টি ইঞ্জিনের বিপরীতে মাত্র দুটি ইঞ্জিন পাওয়া যাচ্ছিল। একপর্যায়ে বন্দরের ইয়ার্ডে ১ হাজার ২০০-এর বেশি টিইইউ কনটেইনার আটকে ছিল।

ইঞ্জিন সংকটের কারণে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার জটের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম  বলেন, গত মাসে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। আমরা কাস্টমস ও রেলওয়েকে চিঠি দিয়ে থাকি। রেল যোগাযোগ নিয়মিত চালু থাকলে কনটেইনার জট কম থাকবে। এটি নিয়মিত চালু থাকা দরকার।

এদিকে আইসিডি কমলাপুরের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহনে অনিয়ম এবং আমদানিকারকদের ওপর ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ আরোপ বন্ধে গত ২৫ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাব, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা ও সমন্বয়ের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি কমলাপুরমুখী কনটেইনার পরিবহন কমে যাওয়ায় আইসিডির কার্যক্রম অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। এতে কনটেইনার দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকছে এবং আমদানিকারকদের ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচামাল সরবরাহ ও সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, ইঞ্জিনের সংখ্যা কিছুটা বাড়ায় বর্তমানে আগের তুলনায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বেড়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ইঞ্জিন এখনো অপ্রতুল।

কর্মকর্তাদের দাবি, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন নিশ্চিত করে পণ্যবাহী ট্রেনের নিয়মিত শিডিউল ফিরিয়ে আনা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। অন্যথায় রেলের আয় কমার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি ও দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী  বলেন, ইঞ্জিন সংকটে পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। এতে আমদানিকারকদের খরচ বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় ঢাকার আইসিডিতে কনটেইনার পাঠানো যায় না। আবার কারখানায় কাঁচামাল পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হয়। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, রেলওয়ের উচিত দ্রুত পর্যাপ্ত ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করে পণ্যবাহী ট্রেনের নিয়মিত শিডিউল নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে সরকার ও রেলওয়েকে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা উচিত।




পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড

পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮ কন্টেইনার বা ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছে। টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি বাংলাদেশের দাবি, নতুন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন ব্যবহার করে এই সাফল্য অর্জন করেছে তারা। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতায় নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর পিসিটিতে সিএমএ সিজিএমের জাহাজ এমভি ওয়ানেন-এ কন্টেইনার ওঠানামার সময় এই রেকর্ড হয়। আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, নতুন এসটিএস ক্রেন চালুর পর গিয়ারলেস জাহাজে এটিই তাদের প্রথম অপারেশন।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজে গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কন্টেইনার বা ৪৮ টিইইউস হ্যান্ডলিং করা হতো। সে হিসাবে পিসিটিতে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের হার আগের গড়ের তুলনায় প্রায় ৯৩ শতাংশ বেশি। একইভাবে ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিং আগের ৪৮ টিইইউস গড়ের তুলনায় প্রায় ৭১ শতাংশ বেশি।

আরএসজিটি বাংলাদেশের দাবি, এই গতি ধরে রাখা সম্ভব হলে জাহাজের বন্দরে অবস্থানের সময় কমানো, বার্থের ব্যবহার বাড়ানো এবং জাহাজ-সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে কন্টেইনার পরিবহনের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় সময় সাশ্রয় হতে পারে।

এক বিবৃতিতে আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরউইন হানে বলেন, ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার বা ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিংয়ের এই অর্জন আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দক্ষ কর্মী ও সুশৃঙ্খল পরিচালনার সমন্বিত ফল। বাংলাদেশে বন্দর পরিচালনার মান আরও উন্নত করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।

আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও পরিচালন জনবল উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে তারা। দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই সাফল্যের পেছনে নতুন এসটিএস ক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ গিয়ার্ড জাহাজে নিজস্ব কন্টেইনার ওঠানামার ক্রেন থাকে। অন্যদিকে গিয়ারলেস জাহাজে নিজস্ব ক্রেন না থাকায় টার্মিনালের তীরের ক্রেনের মাধ্যমে কন্টেইনার ওঠানো-নামানো করতে হয়। ফলে এ ধরনের জাহাজ পরিচালনায় টার্মিনালের ক্রেনের গতি ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।




পুনর্নিরীক্ষণে চট্টগ্রাম বোর্ডে ফেল থেকে পাস ১৯০ জন

পুনর্নিরীক্ষণে চট্টগ্রাম বোর্ডে ফেল থেকে পাস ১৯০ জন
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি (মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ১৯০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। একইসঙ্গে নতুন করে ৮৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। এসব আবেদনের পর মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়।

পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১ হাজার ১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৯৭৫ জন পরীক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০ জন শিক্ষার্থী নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছেন।

এ ছাড়া পুনর্নিরীক্ষণের পর ৮৩ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার।