নতুন উপজেলা, পুরোনো বিরোধ: সদর দপ্তর নিয়ে উত্তপ্ত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

নতুন উপজেলা, পুরোনো বিরোধ: সদর দপ্তর নিয়ে উত্তপ্ত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’

নতুন উপজেলা, পুরোনো বিরোধ: সদর দপ্তর নিয়ে উত্তপ্ত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘদিনের দাবি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় প্রধানমন্ত্রী নতুন এ উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

কিন্তু নতুন এ উপজেলা ঘোষণার পরপরই সদর দপ্তরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাংশ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অন্য অংশ এটিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গণশুনানির সুপারিশ ও প্রশাসনিক যৌক্তিকতাকে উপেক্ষা করে সদর দপ্তরের অবস্থান নির্ধারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র পথ।

উত্তরাঞ্চল নারায়নহাটের বাসিন্দা ও সরকারের সাবেক এক সচিব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, 'সুয়াবিল ও উত্তরের ৩ ইউনিয়ন ভূজপুরে উপজেলা হলে তাদের কোনো কাজে আসবে না; বিধায় নতুন উপজেলার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ও যুগপৎ আইনি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমরা ব্যক্তিস্বার্থের উপজেলা চাই না।'

আবার ভূজপুরের বাসিন্দারা সরকারের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলনে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।

হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, 'ভূজপুরের আশপাশের বাসিন্দাদের এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর হতে পারে না। এবার উপজেলা গঠনের মধ্য দিয়ে এলাকার তৃণমূলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সরকারের সেবাপ্রাপ্তিও সহজ হবে।'

নিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। একই বৈঠকে কুমিল্লায় ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহে ‘পাগলা’ নামে আরও দুটি উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার অংশ নিয়ে ‘হালদা’ নামে একটি নতুন থানা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গণশুনানিতে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী একটি সুবিধাজনক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শন, যোগাযোগব্যবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসেবার বিষয় বিবেচনায় জুজখোলা মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাবও উঠে আসে। কিন্তু এসব উপেক্ষা করে পরে ভিন্ন এক স্থানের (ভূজপুর মৌজা) প্রস্তাব পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ধারণা, সেই স্থানটি ঠিক রেখেই নিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন বাস্তবায়নের পথে। এরপর থেকেই উত্তরাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে চলমান এ বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার উপজেলার হেয়াকোঁ বাজার, নারায়ণহাট, বালুটিলা ও সুয়াবিল এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। এতে কয়েক ঘণ্টা ঢাকা–খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীরা বলেছিলেন, নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানালেও সদর দপ্তর এমন স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা ছয়টি ইউনিয়নের মানুষের জন্য সমানভাবে সহজপ্রাপ্য ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর। গণশুনানির সুপারিশ এবং বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু একদিনের মাথায় বুধবার নিকারের সভায় সরকারের এই সিদ্ধান্তে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি আরও প্রকট হলো।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।