দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর ফটিকছড়ি বিটের দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার, বহাল তবিয়তে আলোচিত এসিএফ লিটা

দৈনিক সাঙ্গুতে ফটিকছড়ির হাজারিখিল রেঞ্জের আওতাধীন সরকারি বনভূমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ একর সরকারি বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বান্দরবান বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) লিটা আক্তারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) হাজারিখিল রেঞ্জের আওতাধীন ফটিকছড়ি বিটের ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় রেঞ্জ কর্মকর্তা আতিক সিকদারের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ফটিকছড়ি বিট কর্মকর্তা নুর আলম মিয়া এবং ১৮ থেকে ২০ জন বনরক্ষী অংশ নেন। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত সরকারি বনভূমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কীকরণ চিহ্ন স্থাপন করা হয়।
এর আগে দৈনিক সাঙ্গুতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আনন্দপুর মৌজার ২৫৭ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ২০ একর সরকারি বনভূমি স্থানীয় আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে দখল করে সেখানে গাছ কেটে নতুন বাগান তৈরি করছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবুল খায়ের বান্দরবান বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক লিটা আক্তারের পিতা এবং মেয়ের সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বনভূমি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বন বিভাগের এই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এটি মূলত জনমতের চাপ এবং সংবাদ প্রকাশের পর নেওয়া পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য, প্রকৃতপক্ষে বনভূমি উদ্ধারের আন্তরিকতা থাকলে বহু আগেই অভিযান পরিচালনা করা যেত। এখন শুধু ভূমি উদ্ধার দেখিয়ে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারের পাশাপাশি যারা দীর্ঘদিন ধরে দখল, গাছ কাটা এবং বনভূমি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ ধরনের অভিযান স্থায়ী কোনো সুফল বয়ে আনবে না। তারা অভিযোগ করেন, এসিএফ লিটা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেরও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত দৃশ্যমান হয়নি।
উল্লেখ্য, পূর্বের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেছিলেন, “আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই করেছি, সমস্যা কী? অনেকে দখল করছে, তাই আমিও করেছি।” অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এসিএফ লিটা আক্তারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, কেবল দখলমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; সরকারি বনভূমি দখলের পেছনে কারা জড়িত, কারা প্রভাব বিস্তার করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে কি না, এসব বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।








