দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর ফটিকছড়ি বিটের দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার, বহাল তবিয়তে আলোচিত এসিএফ লিটা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর ফটিকছড়ি বিটের দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার, বহাল তবিয়তে আলোচিত এসিএফ লিটা

দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর ফটিকছড়ি বিটের দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার, বহাল তবিয়তে আলোচিত এসিএফ লিটা
ছবি সংগৃহীত।

দৈনিক সাঙ্গুতে ফটিকছড়ির হাজারিখিল রেঞ্জের আওতাধীন সরকারি বনভূমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ একর সরকারি বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বান্দরবান বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) লিটা আক্তারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) হাজারিখিল রেঞ্জের আওতাধীন ফটিকছড়ি বিটের ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় রেঞ্জ কর্মকর্তা আতিক সিকদারের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ফটিকছড়ি বিট কর্মকর্তা নুর আলম মিয়া এবং ১৮ থেকে ২০ জন বনরক্ষী অংশ নেন। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত সরকারি বনভূমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কীকরণ চিহ্ন স্থাপন করা হয়।

এর আগে দৈনিক সাঙ্গুতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আনন্দপুর মৌজার ২৫৭ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ২০ একর সরকারি বনভূমি স্থানীয় আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে দখল করে সেখানে গাছ কেটে নতুন বাগান তৈরি করছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবুল খায়ের বান্দরবান বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক লিটা আক্তারের পিতা এবং মেয়ের সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বনভূমি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বন বিভাগের এই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এটি মূলত জনমতের চাপ এবং সংবাদ প্রকাশের পর নেওয়া পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য, প্রকৃতপক্ষে বনভূমি উদ্ধারের আন্তরিকতা থাকলে বহু আগেই অভিযান পরিচালনা করা যেত। এখন শুধু ভূমি উদ্ধার দেখিয়ে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারের পাশাপাশি যারা দীর্ঘদিন ধরে দখল, গাছ কাটা এবং বনভূমি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ ধরনের অভিযান স্থায়ী কোনো সুফল বয়ে আনবে না। তারা অভিযোগ করেন, এসিএফ লিটা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেরও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত দৃশ্যমান হয়নি।

উল্লেখ্য, পূর্বের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেছিলেন, “আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই করেছি, সমস্যা কী? অনেকে দখল করছে, তাই আমিও করেছি।” অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এসিএফ লিটা আক্তারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, কেবল দখলমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; সরকারি বনভূমি দখলের পেছনে কারা জড়িত, কারা প্রভাব বিস্তার করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে কি না, এসব বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।