দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন

দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন

দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারায় বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সমাপ্ত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর থেকে মণ্ডপগুলোতে দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সমুদ্র সৈকতে দেবীকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়। তবে পারকি সৈকত ছাড়াও আনোয়ারায় বিভিন্ন পুকুর, দীঘি এবং শঙ্খ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকে শাস্ত্রীয় মতেই বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হয়।

বিসর্জন উপলক্ষে পারকি সমুদ্র সৈকতে পূজা উদযাপন পরিষদ নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল শীল, সমন্বয়ক সজিব দেব নাথ, রাহুল ধরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা।

বিসর্জনকালে সমুদ্র সৈকতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। বিসর্জনের আগে নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরের কপালে সিঁদুর মেখে শুভকামনা জানান।

এ সময় বিসর্জন স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশ, আনসার এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা শান্তিশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বিসর্জনের সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার মাছ লুটের সংবাদ মিথ্যা, ছবি এআই দিয়ে তৈরি: দেলোয়ার আজীম

বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার মাছ লুটের সংবাদ মিথ্যা, ছবি এআই দিয়ে তৈরি: দেলোয়ার আজীম
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থেকে বিএনপি নেতার মাছ লুটের যে সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম।

গত বুধবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের পুকুরপাড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থেকে মাছ লুটের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত ছবিগুলোও ছিল এআই (AI) দিয়ে বানানো।” এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম বলেন, “আমি ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। সামান্য ভোটের ব্যবধানে বারবার আমাকে পরাজিত করা হয়েছে। গত নির্বাচনেও মাত্র ৭ ভোটে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন সামনে এলেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। সরকারি পুকুরের মাছ লুটের গল্প তৈরি করে অপপ্রচার চালানোও তারই অংশ।”

পুকুরের ইজারার বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এই পুকুর আমি তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছি এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিয়েছি।” এ সময় লিজের চালানপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ১৪৩৪ বাংলা সন পর্যন্ত আমার মেয়াদের বৈধতা আছে। তবুও এ বিষয়ে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে তা শিরোধার্য। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে, আমার লিজ নেওয়া পুকুর থেকে মাছ ধরার আগেই পরিকল্পিতভাবে ‘মাছ লুট’-এর কাহিনি সাজিয়ে আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই অপপ্রচারের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসী যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেজন্যই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।”

বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম আরও অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল চাঁদা না পেয়ে এবং লিজের পুকুরের মাছ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অসত্য তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুকুরে মাছ লুটের কোনো ঘটনা না ঘটলেও একটি মহল প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ফলে খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযোগের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাননি।

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থেকে মাছ লুটের সংবাদটি সত্য নয়। বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম পুকুরটি লিজ নিয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। তাঁর জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছবি ক্যাপশন (১): সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম।




বাঁশখালী থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে উদ্ধার, আটক ৬

বাঁশখালী থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে উদ্ধার, আটক ৬
বাঁশখালীতে উদ্ধার হওয়া অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসান।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি প্রেমবাজার থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসানকে (৩৬) ৩ দিন পর কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার আলীখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্প (লেদা ক্যাম্প-২৫) থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশ ও বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা সাবেক সেনা ও র‌্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সিসহ (৩২) ৬ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। আটককৃত অন্যরা হলো—মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রেমবাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এসআরবি পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাবেক সেনা ও র‌্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ভিকটিমের স্ত্রী এবং দোকানের ম্যানেজার মোজাফফর উদ্দিনকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা দাবিকৃত টাকা না দিলে ভিকটিমকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছিল।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা নম্বর ২৭, তারিখ ১৯.১০.২০২৬ রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আরও তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার তাদের গণমাধ্যমের মুখোমুখি করা হবে।




‘হিন্দুরা সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’— নাগরিক ঢেমশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের

‘হিন্দুরা সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’— নাগরিক ঢেমশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৮ নম্বর ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের। গতকাল ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত ৮টায় ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামের পূজা মণ্ডপগুলোতে সফর করে তিনি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তদের সাথে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শেনেন। তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাদের উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের আহ্বান জানান।

পূজা মণ্ডপগুলোতে উপস্থিত ভক্ত ও সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবু তাহের বলেন, “সনাতনীরা আমাদের প্রতিবেশী। অতীতে যেমন তাঁদের প্রতিটি সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, ঠিক তেমনই আগামীতেও তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করে যাব।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা কোনো সংখ্যালঘু নয়; আমরা সবাই এই দেশের সম্মানিত নাগরিক এবং অভিন্ন বাংলাদেশি। তাঁদের সার্বিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে ধর্ম পালনের ব্যবস্থা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

সফরকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের ইউনিয়নের একাধিক ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দির

  • পূর্ব শিলপাড়া দুর্গা মন্দির

  • মিলন চৌধুরীর দুর্গা মন্দির

  • মজুশ্রী চৌধুরী দুর্গা মন্দির

  • ডিকে চৌধুরী দুর্গা মন্দির

  • উত্তরপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দির

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পৌঁছালে তাঁকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সফর শেষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের ঢেমশা ইউনিয়নের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।