দিল্লিতে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

দিল্লিতে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির

দিল্লিতে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির
ছবি সংগৃহীত।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও অন্যান্য দাবি পূরণ হওয়ায় আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এরপর যৌথ ঘোষণায় তারা আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দেন এবং বিক্ষোভকারীদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা সাংবাদিকদের বলেন, সরকার তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছে। আর সেই থেকে স্বদিচ্ছার অংশ হিসেবে তারা আন্দোলন সমাপ্ত করছেন।

তারা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি তারা সরাসরি আদায় করে নিয়েছেন। আর দুটি দাবির মধ্যে ছিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া পুলিশি অভিযোগ প্রত্যাহার ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জেরে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন তাদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সরকার তাদের এ দাবিগুলোও মেনে নিয়েছে।

মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, “সরকার যেহেতু আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে তাই আমরা সব আন্দোলনকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, “৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো উগ্র ছিল না, ছিল সাধারণ এবং সরকার এখন এগুলো মেনে নিয়েছে।”

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশ লাউড স্পিকারে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়েছে এখন তারা যেন এখান থেকে সরে যান।

এক মাসের বেশি সময় ধরে তীব্র এ আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া জনাসমাগম আটকাতে সেখানকার ১৬-১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি




অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
ছবি সংগৃহীত।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে, তাহলে আলোচনার কোনো অর্থ হয় না।

আশুতোষ আরও বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস চলবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক জবাব এলে আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকে না।

এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, তারা এখনও তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি তিনটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এগুলো হলো, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি




বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ভারতের

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ভারতের
ছবি সংগৃহীত।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রত্যাশার কথা জানান।

ব্রিফিংয়ে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশ ভারতে দুজন প্রেস কর্মকর্তা পাঠিয়েছে। অতীতে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিদ্বেষী অবস্থান দেখা গিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী?

জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা আমাদের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চাই। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে এখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমরা উন্মুখ।’

ব্রিফিংয়ে গৌতম লাহিড়ী নামের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত শিগগিরই ঢাকা সফরে আসছেন। তিনি কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানিয়েছেন? তার সফরের উদ্দেশ্য কী হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে কিনা?’

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর প্রসঙ্গে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’




বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ
ছবি সংগৃহীত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে শিথিলতার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন এ শুল্ক আরোপ করেছে। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ-সংক্রান্ত নির্বাচনী পরিকল্পনা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউস এ সর্বশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আমদানি এ শুল্কের আওতায় আসবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যসহ অসংখ্য পণ্যকে এ শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এ শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। নতুন শুল্ক ঠিক সেই সময় থেকেই কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্যগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই কাজ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্য প্রথা সংশোধন করতে এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতির আওতায় আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে পূর্ব-বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের শুল্ক হারের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনও রয়েছে। দেশটির বিরুদ্ধে উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ
ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের পর কয়েকটি দেশ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেছেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এ শুল্ক আরোপের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধে আমাদের ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল নতুন শুল্কগুলোকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে। দেশ দুটি বলেছে, তারা এগুলো প্রত্যাহারের চেষ্টা করবে। অন্যদিকে কানাডাও এ ‘একতরফা’ শুল্কের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিষয়ক কানাডার মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের পারস্পরিক স্বার্থে আমরা আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়সহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাব।’

সূত্র: রয়টার্স