দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে দুই শতকের বাঁশনালিয়া খাল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে দুই শতকের বাঁশনালিয়া খাল

দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে দুই শতকের বাঁশনালিয়া খাল
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ির ভূজপুর ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো বাঁশনালিয়া খাল এখন দখল ও দূষণের চাপে অস্তিত্বসংকটে। একসময় যে খাল ছিল এলাকার কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও জনজীবনের অন্যতম ভরসা, আজ সেটি অনেক জায়গায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে ভূজপুর ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজিরহাট বাজার এলাকায় খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। বাজারের নিত্যদিনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সরাসরি খালে। কোথাও কোথাও খালের পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক স্থানে খালের প্রকৃত চিহ্নও প্রায় হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যেই খালটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, হারুয়ালছড়ি-ভূজপুর সীমান্ত এলাকার নালিরবিল থেকে বাঁশনালিয়া খালের উৎপত্তি। স্থানীয়দের কাছে এটি "বাঁশনালিয়া ছড়া" নামেও পরিচিত। পশ্চিম আঁধারমানিক, পশ্চিম ভূজপুর, কাজিরহাট বাজার ও আমতলী এলাকা অতিক্রম করে খালটি গিয়ে মিশেছে মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে। হারুয়ালছড়ি ও ভূজপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি এই খাল দিয়েই প্রবাহিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় এক যুগ আগে শ্রমিক দিয়ে খালটি খনন করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পলি জমে খাল ভরাট হয়েছে, আর সেই সুযোগে শুরু হয়েছে দখল।

পশ্চিম ভূজপুর এলাকার বাসিন্দা ও গ্রাম পুলিশ সদস্য জাগির হোসেন বলেন, "অনেক আগে খালটি খনন হয়েছিল। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ঠিকমতো নামতে পারে না। বর্ষাকালে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, ফসল নষ্ট হয়। খালটি দ্রুত খনন করা দরকার।"

স্থানীয় কৃষক মো. ইউনুচ বলেন, "এই খালটা আমাদের কৃষির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। খাল খনন হলে কৃষক যেমন উপকৃত হবে, তেমনি বর্ষায় জলাবদ্ধতাও কমে যাবে।"

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম আঁধারমানিক থেকে হালদা নদীতে মিলিত হওয়া পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে পশ্চিম ভূজপুর থেকে কাজিরহাট বাজারের পূর্ব পাশ পর্যন্ত অংশে সবচেয়ে বেশি দখল ও দূষণ হয়েছে। শুধু কাজিরহাট বাজার এলাকাতেই খালের ওপর ও দুই পাড়জুড়ে গড়ে উঠেছে অন্তত ৫০ থেকে ১০০টি দোকান। বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্যে খালটি অনেক স্থানে সরু হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পানি স্বাভাবিকভাবে হালদা নদীতে যেতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণ চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে প্রতিবছর বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার ভোগান্তি বাড়ছে। প্রকৃতি ও জনজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঁশনালিয়া খাল এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। দ্রুত দখলমুক্ত করে পুনঃখননের উদ্যোগ না নিলে ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে শতবর্ষী এই খাল।

ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএইচএম শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, "খালটি খননের জন্য বিএডিসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত খননকাজ শুরু হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।"

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, "খাল দখল ও দূষণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ইতিমধ্যে দখল হওয়া অংশগুলো চিহ্নিত করে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাল রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।"




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।