থানচি-তিন্দুমুখ নৌপথে চলাচল ৩০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

থানচি-তিন্দুমুখ নৌপথে চলাচল ৩০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা

থানচি-তিন্দুমুখ নৌপথে চলাচল ৩০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বান্দরবানের থানচি উপজেলার থানচি সদর থেকে তিন্দুমুখ পর্যন্ত সাঙ্গু নদীপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় সব পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, নৌযান চালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ১৩ সদস্যের একটি পর্যটক দল মোটরসাইকেলে ডিম পাহাড়ের ২১ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে তিন্দুতে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে নৌকাযোগে লাংলোক ঝরনার উদ্দেশে রওনা দিলে রাজাপাথর এলাকায় তাদের নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনায় দলের সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পেলেও জাওয়াদ-উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) নামের এক পর্যটক সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপেচাষিদের স্বপ্ন শেষ করে দিল বন্যা

নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপেচাষিদের স্বপ্ন শেষ করে দিল বন্যা
ছবি সংগৃহীত।

মাত্র আর কয়েকদিন অপেক্ষা। এরপরই বাজারে উঠত পাকা পেঁপে। বিক্রির টাকা দিয়ে শোধ হতো ব্যাংকের ঋণ, পরিশোধ হতো ধারদেনা। সংসারে ফিরত স্বস্তি। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস। টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় চোখের সামনে ফলভর্তি প্রায় দুই শতাধিক পেঁপে গাছ পচে-গলে মাটিতে মিশে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কৃষক মো. ছৈয়দ আলম। তাঁর মতো একই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন উপজেলার শত শত কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা পেঁপেবাগান। মাঠজুড়ে এখন শুধু পচা গাছ, ঝরে পড়া ফল আর কৃষকের হাহাকার।

শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার ঘুমধুম, বাইশারী, সদর ও দোছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনো পানি ও কাদায় ডুবে রয়েছে। কোথাও পেঁপে গাছ উপড়ে পড়ে আছে, কোথাও গাছের কাণ্ডে পচন ধরেছে, আবার কোথাও ফলসহ পুরো গাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কলা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়স, শসাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঋণ নিয়ে গড়া বাগান, এক টাকাও আয় হলো না

উত্তর কল্লিয়ামুরা গ্রামের কৃষক মো. ছৈয়দ আলম কয়েক মাস আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে কক্সবাজার থেকে উন্নত জাতের পেঁপের চারা এনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনার টাকায় জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। গাছে আশানুরূপ ফলনও এসেছিল। বড় বড় পেঁপে বাজারজাত করার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তাঁর প্রায় দুই শতাধিক পেঁপে গাছ ফলসহ নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও গাছ ভেঙে পড়ে, কোথাও পচে যায়, আবার কোথাও গাছের পাতা ও ডাল ঝরে পড়ে। ফলে একটি পেঁপেও বাজারে তুলতে পারেননি তিনি।

কৃষক ছৈয়দ আলম বলেন, “অনেক আশা নিয়ে ঋণ আর ধারদেনা করে পেঁপে চাষ করেছিলাম। ভাবছিলাম বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করব, সংসার ভালোভাবে চলবে। কিন্তু বন্যার পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এক টাকারও পেঁপে বিক্রি করতে পারিনি। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব, কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব জানি না। সরকার যদি আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে বাঁচার আর কোনো পথ থাকবে না।”

প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকার বিনিয়োগ, ফিরেছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার

ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু ফাত্রাঝিরি গ্রামের কৃষক মো. আবদুর রহিম চার কানি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, উন্নত জাতের চারা, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিচর্যায় এই অর্থ ব্যয় করেন তিনি। কিন্তু ভয়াবহ বন্যায় তাঁর বাগান প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।

আবদুর রহিম বলেন, “ঋণ করে পেঁপেবাগান করেছিলাম। এবার ভালো লাভের আশা ছিল। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।”

লাখ লাখ টাকার ক্ষতি, নতুন করে চাষের পুঁজিও নেই

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের টানা বর্ষণ ও বন্যায় দীর্ঘ সময় ধরে কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেঁপেবাগান। পাশাপাশি কলা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়স, শসাসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অনেক কৃষক জানান, ঋণ ও ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন সেই পুঁজিও হারিয়ে নতুন করে মাঠে নামার মতো সামর্থ্য নেই। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুর দাবি জানান। অন্যথায় অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, “প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৫০০ জন কৃষকের মধ্যে সাত ধরনের সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”

নাইক্ষ্যংছড়ির কৃষকদের আশা, সরকার দ্রুত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করলে তাঁরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। অন্যথায় এবারের বন্যা শুধু ফসলই নয়, বহু কৃষক পরিবারের জীবিকার ভিত্তিও ভেঙে দেবে। সীমান্ত জনপদের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




লামায় পাওনা টাকা চাওয়ায় হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

লামায় পাওনা টাকা চাওয়ায় হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় কাঠ বিক্রির পাওনা টাকা চাওয়ায় ওসমান গণি (২৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে জখম ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে লামা পৌরসভার চাম্পাতলী মোড়সংলগ্ন কিরণের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ওসমান গণি লামা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মৃত মো. সোলাইমানের ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী মো. আবু মুছা (২৭)-এর নিকট কাঠ বিক্রির বাবদ ৬৮,১৮০ টাকা পাওনা ছিলেন ওসমান গণি। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা ও হয়রানি করে আসছিলেন আবু মুছা। ২৫ জুলাই দুপুরে আবু মুছা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ওসমান গণি তাঁকে থামিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু মুছা গালিগালাজ শুরু করেন এবং মুঠোফোনে ডেকে তাঁর সহযোগীদের ঘটনাস্থলে আনেন।

খবর পেয়ে অন্য বিবাদীরা স্টিলের পাইপ ও মোটা কাঠের বাটাম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওসমান গণির ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা তাঁর বুক, পিঠ, কোমর, পা, হাত ও কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে বিবাদী মাহফুজ (২২) ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা ৩৫,২৩০ টাকা ছিনিয়ে নেন।

এ ঘটনায় মাহফুজ (২২), মো. নাছির (৪৮), মাসুম (২৪), মো. আবু মুছা (২৭) ও মো. সোহেল (২১)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওসমান গণি।

স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে লামা বাজারে ভুক্তভোগীকে পুনরায় দেখতে পেয়ে বিবাদীরা গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা চালান।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




৩০ জুলাই পর্যন্ত থানচিতে নৌপথে চলাচল বন্ধ ঘোষণা

৩০ জুলাই পর্যন্ত থানচিতে নৌপথে চলাচল বন্ধ ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলার সদর থেকে তিন্দুমুখ পর্যন্ত নৌপথে চলাচল আগামী ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এস. এম. হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক নম্বর: ০৫.৪২.০৩০০.২০২.৩৪.০২৬.২৬.২৪৪) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথ প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।