জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির

জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির
ছবি সংগৃহীত।

শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করার চিন্তাভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, পরীক্ষা শেষ হলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্ভব্য নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সরাসরি কোনো চিঠি চালাচালি করার নিয়ম বা নজির নেই। তবে কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং বর্তমানে সরকারের কাছে কোন কোন ক্ষেত্র নির্বাচন উপযোগী তার একটি স্পষ্ট তালিকা চাওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পেছানোর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকেন। একই সময়ে নির্বাচন পরিচালনা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাস্তবতার নিরিখে এবং সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে রাখতেই নির্বাচনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।




৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিয়োগ হবে ৫ হাজার চিকিৎসক

৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিয়োগ হবে ৫ হাজার চিকিৎসক
ছবি সংগৃহীত।

৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে চার হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের কথা রয়েছে।

আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পিএসসি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়েছে, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি ও অন্যান্য কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এ বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট অথবা পিএসসির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ফি ৫০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও ডেটা ভেরিফিকেশন চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ টাকা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা। তবে ওই সময়ের মধ্যে ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথে থাকা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সব লিখিত পরীক্ষা অবশ্যই ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে শেষ হতে হবে। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির সমমানের সনদ এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে।

সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এবারের বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে থাকবে। মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে থাকবে ১০ নম্বর করে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ের জন্য থাকবে ১০০ নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হবে।

পিএসসি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষা মূলত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও প্রার্থিতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া, সনদ জাল করা কিংবা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

এ ছাড়া এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বা ভবিষ্যতের সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে পিএসসি।




ট্রাক চালক হোসেন হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল

ট্রাক চালক হোসেন হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
ছবি সংগৃহীত।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ট্রাক চালক হোসেন হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম. আনিছুর রহমান (আনিছ) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় কারাগারে আটক থাকা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। এজন্য বিচারক অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু রয়েছেন পলাতক আসামির মধ্যে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন এ মামলায় কারাগারে আছেন। এছাড়া জামিনে রয়েছেন ১০ জন।




টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের

টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের
ছবি সংগৃহীত।

টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিতে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) ফোকাল পয়েন্টস নেটওয়ার্ক’-এর বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই তথ্য জানায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ফিলিপাইন, ইতালি ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক রেজুলেশন ১৩২৫ গ্রহণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর আলোচনা হয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, ২০০০ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে রেজুলেশন ১৩২৫ সমর্থনে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জলবায়ু ও মানবিক কার্যক্রমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) অ্যাজেন্ডার অন্তর্ভুক্তি এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর সহিংসতা মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর বিষয়টি তুলে ধরেন।

পাশাপাশি আসন্ন ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ যোগ দিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আমন্ত্রণ জানান।