চুরি রোধে সমাবেশ: ফটিকছড়িতে কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রান্সফরমার চুরি!
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

চুরি রোধে সমাবেশ: ফটিকছড়িতে কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রান্সফরমার চুরি!

চুরি রোধে সমাবেশ: ফটিকছড়িতে কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রান্সফরমার চুরি!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও চুরি-ডাকাতি রোধে থানা পুলিশের মতবিনিময় সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে লেলাং চম্পাতলী গ্রামে গহিরা-হেয়াকো সড়কের পাশে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে এ ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়।

স্থানীয় সূত্রমতে, সম্প্রতি এলাকায় চুরি ও ডাকাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ইসলামিয়া বাজার মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন এবং এলাকা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে নানা দিকনির্দেশনা দেন। কিন্তু এ সমাবেশ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দিন গভীর রাতে চম্পাতলী এলাকায় ঘটে চুরির ঘটনা। দুর্বৃত্তরা অনায়াসে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। থানা পুলিশের সমাবেশের পরপরই এমন চুরির ঘটনায় অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, চোরচক্র কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে পুলিশি সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা এই দুঃসাহস দেখিয়েছে।

এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধারের দাবি জানান। চট্টগ্রাম-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ফটিকছড়ি জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবুল বাসার শামছুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শাহনগরে একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আমরা হতবাক। থানায় জিডির প্রস্তুতি চলছে।”

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, “স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন; অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার নিহত, আহত ২

ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার নিহত, আহত ২
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. সজিব (২০) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রায়হান উদ্দিন নামে এক সংবাদকর্মী ও অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার গহিরা-হেয়াঁকো সড়কের বক্তপুর কড়ালিয়া পুকুর পাড় নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব রোসাংগিরী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মনুর বাপের বাড়ি এলাকার মো. রফিকের ছেলে। তিনি ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আহত রায়হান উদ্দিন একই এলাকার  বাসিন্দা ও স্থানীয় সংবাদকর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ধর্মপুর আজাদীবাজার থেকে ব্যক্তিগত কাজ সেরে মোটরসাইকেলে যোগে নানুপুর ফিরছিলেন রায়হান উদ্দিন ও মো. সজিব। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদা খানম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সজিবের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। আহত অপর ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খাঁন বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




ফটিকছড়ির পঞ্চবটি চা বাগানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই, রাত পোহানোর আগেই জনতার হাতে আটক ৪

ফটিকছড়ির পঞ্চবটি চা বাগানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই, রাত পোহানোর আগেই জনতার হাতে আটক ৪
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানাধীন ৩ নম্বর নারায়নহাট ইউনিয়নের পঞ্চবটি চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার ও বাগানের চিকিৎসককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও বাগানের শ্রমিকদের সহায়তায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে নারায়নহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবটি চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

"আটক ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি স্থানীয়দের,

জামিনে মুক্তি পেলে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা"

সরেজমিনে জানা গেছে, চা বাগানের শ্রমিকদের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাপ্তাহিক বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য সহকারী ম্যানেজার নেপাল কান্তি দাশ ও বাগানের চিকিৎসক ডা. বাবুল দাশ নারায়নহাট কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ব্যাগে নিয়ে বাগানে ফিরছিলেন। বাগানের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ফ্যাক্টরির একটু আগে মসজিদের কাছে পৌঁছালে ওতপেতে থাকা একদল ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় তাদের হাতে ছুরি, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় তাঁরা টাকার ব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আবু তাঁর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বাবুল দাশকে আঘাত করেন। সম্রাট তাঁর হাতে থাকা অস্ত্র নেপাল কান্তি দাশের মাথায় তাক করে ধরেন এবং রাশেদ তাঁদের দুজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।

এ ঘটনায় বাগানের সহকারী ম্যানেজার নেপাল কান্তি দাশ (৬০) ও চিকিৎসক ডা. বাবুল দাশ (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডা. বাবুল দাশকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাগানের ম্যানেজার অর্জুন জানান, সহকারী ম্যানেজার ব্যাংক থেকে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলেন। ওই টাকা পূজা উপলক্ষে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য আনা হচ্ছিল।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও বাগানের শ্রমিকেরা ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে মোহাম্মদ আবু (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি ভূজপুর ইউনিয়নের পাগলিছড়ি এলাকার জালাল আহমদের ছেলে।

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিহান (২৬) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। তিনি নারায়নহাট ইউনিয়নের ইদিলপুর টিলাপাড়া এলাকার মাস্টারবাড়ির আবুল হাশেমের ছেলে বলে জানা গেছে।

আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জবানবন্দিতে তাঁদের সঙ্গে রাশেদ ও সম্রাট নামে আরও দুজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। রাশেদ ইদিলপুরের গুন্নারবিল এলাকার বশরের ছেলে এবং সম্রাট উত্তরটিলা এলাকার আইয়ুবের ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, রাশেদ ও সম্রাট ছিনতাই করা টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে রাত ৯টার দিকে একই বাগানের পশ্চিম পাশের জঙ্গল থেকে এলাকাবাসী তাঁদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।

এদিকে, আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বাগানের শ্রমিকেরা বাধা দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-ডাকাতি, হাইজ্যাক, গরু-ছাগল চুরি থেকে শুরু করে এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করেনি। তাদের অত্যাচার, হুমকি-ধমকি ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। এক কথায় এদের এলাকায় চোর ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই চেনে। এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার এবং চা বাগানের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার পথে বাগানের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়।

পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানিয়েছেন, চা বাগানের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ভূজপুর থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই বিভিন্ন গ্রাম ও সড়কে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনাও বেড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।




চট্টগ্রামে বনের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তাকে মারধর

চট্টগ্রামে বনের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তাকে মারধর
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জের ধরে মেহরাজ উদ্দিন নামে এক বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের এভিয়ারি পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, আহত মেহরাজ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন কর্মরত।

হামলার বিষয়ে মেহরাজ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ইকো পার্কের পিকনিক স্পট ও গাড়ি রাখার পার্কিং এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বাধার মুখে পড়ে পুরো কাজ শেষ না করেই তারা রেঞ্জ অফিসে ফিরে যান।

তিনি বলেন, উচ্ছেদের জের ধরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে একদল লোক কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে ব্যারিকেড দেয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু ঘটনাস্থলে যান এবং তাকে সেখানে যেতে বলেন।


আমি ঘটনাস্থলে গেলে সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা আমার ওপর হামলা চালায়। তিনি অনেক চেষ্টা করেও আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

মেহরাজের অভিযোগ, স্থানীয় জবরদখলকারী হিসেবে পরিচিত আনোয়ার, আহমাদুল হক, মোহাম্মদ হোসেন ও জাহেদসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। জাহেদ ছাড়া বাকি তিনজন বনভূমি জবরদখলের একাধিক মামলার আসামি বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন বলেন, বন বিভাগের লোকজন এসে এক বিধবা নারী ও এক হুজুরের ঘর ভেঙে দিয়েছিলেন। তারা তাদের এলাকার লোক হওয়ায় এর প্রতিবাদ করেছেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদ বলেন, টাকা না দেওয়ায় বন বিভাগের লোকজন ঘরগুলো উচ্ছেদ করেছেন বলে ওই দুজন তাদের জানিয়েছিলেন। এরপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। উচ্ছেদের পর তারা আরও লোকজন জড়ো করে সড়কে ব্যারিকেড দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উত্তেজিত জনতা বন কর্মকর্তাকে মারধর করে।

তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা আহত হওয়ায় বন বিভাগকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাঙ্গুনিয়া ইকো পার্কের জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর অন্তত ২০০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে মেহরাজের ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এভিয়ারি পার্কে লুটপাট চালিয়ে হরিণ, পাখিসহ কয়েকশ বন্যপ্রাণী নিয়ে যায় র্দুবৃত্তরা। এ সময় পার্কে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ক্যাবল কারটিও ভাঙচুর করা হয়।