চট্টগ্রামে বনের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তাকে মারধর
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে বনের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তাকে মারধর

চট্টগ্রামে বনের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তাকে মারধর
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জের ধরে মেহরাজ উদ্দিন নামে এক বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের এভিয়ারি পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, আহত মেহরাজ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন কর্মরত।

হামলার বিষয়ে মেহরাজ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ইকো পার্কের পিকনিক স্পট ও গাড়ি রাখার পার্কিং এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বাধার মুখে পড়ে পুরো কাজ শেষ না করেই তারা রেঞ্জ অফিসে ফিরে যান।

তিনি বলেন, উচ্ছেদের জের ধরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে একদল লোক কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে ব্যারিকেড দেয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু ঘটনাস্থলে যান এবং তাকে সেখানে যেতে বলেন।


আমি ঘটনাস্থলে গেলে সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা আমার ওপর হামলা চালায়। তিনি অনেক চেষ্টা করেও আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

মেহরাজের অভিযোগ, স্থানীয় জবরদখলকারী হিসেবে পরিচিত আনোয়ার, আহমাদুল হক, মোহাম্মদ হোসেন ও জাহেদসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। জাহেদ ছাড়া বাকি তিনজন বনভূমি জবরদখলের একাধিক মামলার আসামি বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন বলেন, বন বিভাগের লোকজন এসে এক বিধবা নারী ও এক হুজুরের ঘর ভেঙে দিয়েছিলেন। তারা তাদের এলাকার লোক হওয়ায় এর প্রতিবাদ করেছেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদ বলেন, টাকা না দেওয়ায় বন বিভাগের লোকজন ঘরগুলো উচ্ছেদ করেছেন বলে ওই দুজন তাদের জানিয়েছিলেন। এরপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। উচ্ছেদের পর তারা আরও লোকজন জড়ো করে সড়কে ব্যারিকেড দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উত্তেজিত জনতা বন কর্মকর্তাকে মারধর করে।

তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা আহত হওয়ায় বন বিভাগকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাঙ্গুনিয়া ইকো পার্কের জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর অন্তত ২০০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে মেহরাজের ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এভিয়ারি পার্কে লুটপাট চালিয়ে হরিণ, পাখিসহ কয়েকশ বন্যপ্রাণী নিয়ে যায় র্দুবৃত্তরা। এ সময় পার্কে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ক্যাবল কারটিও ভাঙচুর করা হয়।




ফটিকছড়ির পঞ্চবটি চা বাগানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই, রাত পোহানোর আগেই জনতার হাতে আটক ৪

ফটিকছড়ির পঞ্চবটি চা বাগানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই, রাত পোহানোর আগেই জনতার হাতে আটক ৪
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানাধীন ৩ নম্বর নারায়নহাট ইউনিয়নের পঞ্চবটি চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার ও বাগানের চিকিৎসককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও বাগানের শ্রমিকদের সহায়তায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে নারায়নহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবটি চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

"আটক ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি স্থানীয়দের,

জামিনে মুক্তি পেলে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা"

সরেজমিনে জানা গেছে, চা বাগানের শ্রমিকদের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাপ্তাহিক বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য সহকারী ম্যানেজার নেপাল কান্তি দাশ ও বাগানের চিকিৎসক ডা. বাবুল দাশ নারায়নহাট কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ব্যাগে নিয়ে বাগানে ফিরছিলেন। বাগানের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ফ্যাক্টরির একটু আগে মসজিদের কাছে পৌঁছালে ওতপেতে থাকা একদল ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় তাদের হাতে ছুরি, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় তাঁরা টাকার ব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আবু তাঁর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বাবুল দাশকে আঘাত করেন। সম্রাট তাঁর হাতে থাকা অস্ত্র নেপাল কান্তি দাশের মাথায় তাক করে ধরেন এবং রাশেদ তাঁদের দুজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।

এ ঘটনায় বাগানের সহকারী ম্যানেজার নেপাল কান্তি দাশ (৬০) ও চিকিৎসক ডা. বাবুল দাশ (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডা. বাবুল দাশকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাগানের ম্যানেজার অর্জুন জানান, সহকারী ম্যানেজার ব্যাংক থেকে ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলেন। ওই টাকা পূজা উপলক্ষে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য আনা হচ্ছিল।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও বাগানের শ্রমিকেরা ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে মোহাম্মদ আবু (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি ভূজপুর ইউনিয়নের পাগলিছড়ি এলাকার জালাল আহমদের ছেলে।

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিহান (২৬) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। তিনি নারায়নহাট ইউনিয়নের ইদিলপুর টিলাপাড়া এলাকার মাস্টারবাড়ির আবুল হাশেমের ছেলে বলে জানা গেছে।

আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জবানবন্দিতে তাঁদের সঙ্গে রাশেদ ও সম্রাট নামে আরও দুজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। রাশেদ ইদিলপুরের গুন্নারবিল এলাকার বশরের ছেলে এবং সম্রাট উত্তরটিলা এলাকার আইয়ুবের ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, রাশেদ ও সম্রাট ছিনতাই করা টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে রাত ৯টার দিকে একই বাগানের পশ্চিম পাশের জঙ্গল থেকে এলাকাবাসী তাঁদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।

এদিকে, আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বাগানের শ্রমিকেরা বাধা দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-ডাকাতি, হাইজ্যাক, গরু-ছাগল চুরি থেকে শুরু করে এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করেনি। তাদের অত্যাচার, হুমকি-ধমকি ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। এক কথায় এদের এলাকায় চোর ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই চেনে। এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার এবং চা বাগানের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার পথে বাগানের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়।

পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানিয়েছেন, চা বাগানের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ভূজপুর থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই বিভিন্ন গ্রাম ও সড়কে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র চুরির ঘটনাও বেড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।




ফটিকছড়িতে চা বাগান কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, আটক ২

ফটিকছড়িতে চা বাগান কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের মির্জারহাট এলাকায় পঞ্চবটি চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক নেপাল কান্তি দাশ ও এক পল্লিচিকিৎসককে কুপিয়ে জখম করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগানের প্রবেশমুখে একটি মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

পুলিশ ও বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নেপাল কান্তি দাশ ও পল্লিচিকিৎসক বাবুল দাশ নারায়ণহাট কৃষি ব্যাংক থেকে চা বাগানের ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। পথে বাগানের প্রবেশমুখে তিনজনের একটি ছিনতাইকারী দল তাঁদের গতিরোধ করে। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিতে গেলে নেপাল কান্তি দাশ ও পল্লিচিকিৎসক বাবুল দাশকে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পঞ্চবটি চা বাগানের ব্যবস্থাপক অর্জুন কুমার নাথ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর চা বাগানের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে আবু (২৩) নামের একজনকে আটক করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিহান (২৫) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ভূজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করা এবং ছিনিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।




ফটিকছড়ির ৬০০ শিক্ষার্থীর নতুন সঙ্গী একটি করে গাছ

ফটিকছড়ির ৬০০ শিক্ষার্থীর নতুন সঙ্গী একটি করে গাছ
ছবি সংগৃহীত।

শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, গাছের যত্ন নেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের পাঠও পাবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির তৌহিদুল আনোয়ার হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিতরণ করা হয়েছে মোট ৬৫০টি চারা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) চট্টগ্রামের খুলশী কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণে আগ্রহ তৈরি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিতরণ করা চারার মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, মাল্টা, পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ভেষজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারীর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আতিকুর রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাছপালা আমাদের শুধু খাদ্য ও পুষ্টি জোগায় না, ছায়া ও অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, যার প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এমন একটি চমৎকার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজাউদ্দিন জাফর। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের যুগ্ম সচিব মোক্তার হোসেন টিটু ও বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মো. সাজ্জাদ হোসেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক এম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাহুল দাশ মিথুন, ইউপি সদস্য রমজান আলী ও মো. শাহজাহানসহ অনেকে।