চকরিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসআরবি-১৫

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বজনীন আনন্দ ও ধর্মীয় আবহ রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত দৃশ্যমান টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং রিজার্ভ বলয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রোববার বিকেল চারটায় চকরিয়ায় কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।
সাংবাদিক ও উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশ্যে এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অখণ্ড অংশ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব আমাদের সামাজিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।”
উৎসবের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পুরো উৎসবকালীন সময়ে জেলা পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কক্সবাজার ও বান্দরবানের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আমাদের নিয়মিত দৃশ্যমান টহলের (ভিজিবল পেট্রোলিং) পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া যেকোনো জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিমা বিসর্জন ও দশমীর দিন বিপুল জনসমাগম হয়, যা আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরোধ, মাঠপর্যায়ে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা তথ্য নজরে এলে সাথে সাথে আমাদের কন্ট্রোল রুম অথবা নিকটস্থ টহল দলকে অবহিত করবেন। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-১৫ কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর এস এম মারুফ, এসআরবি-১৫ কক্সবাজারের স্কোয়াড কমান্ডার সিপিএসসি ক্যাম্প সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ হাসান, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেব নাথ, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মজিদ, পৌরসভার সভাপতি টিটু কুমার বসাক প্রমুখ।










