‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ এই প্রতিপাদ্যে কক্সবাজারে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও গণপূর্ত বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কউক ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রধান সড়ক ঘুরে কউক ভবন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
এতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত বিভাগ, পৌরসভা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাল্টিপারপাস হলে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল ও সিস্টেম অ্যানালিস্ট হেলাল উদ্দীন হেজাযী।
এতে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা এবং কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।
অনুষ্ঠানে কউক সচিব সানজিদা বেগম, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রেজাউল করিম মোহাম্মদ তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) ইমাম খাইর। তিনি কউক নির্মিত বিভিন্ন প্রকল্পের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন এবং বিশেষ করে লালদিঘি, গোলদিঘি ও নাপিতা পুকুরের বর্তমান বেহাল চিত্র তুলে ধরেন।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইমারত বিধিমালা ও বসতি নির্মাণসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে একটি মেগা মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগ, পরিবেশ ও নাগরিক সেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সেমিনারে জানানো হয়, পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শৈবাল ও লাবণী বিচ এলাকাকে ঘিরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ইকো-রিসোর্ট, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থায় বিমানবন্দর ও রানওয়ে সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগেও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, পাটুয়াটেক ও টেকনাফে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেমিনারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পরিবেশের ভারসাম্য, পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বয় করেই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বিশ্ব বসতি দিবসের বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে কউক ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত সেবা স্টলগুলো থেকে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য প্রদান করা হয়।