গ্রামবাংলার রঙে রাঙা উৎসব "চড়ুইভাতি"
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

গ্রামবাংলার রঙে রাঙা উৎসব "চড়ুইভাতি"

গ্রামবাংলার রঙে রাঙা উৎসব "চড়ুইভাতি"
ছবি সংগৃহীত।

রঙিন পোশাক, মুখভরা হাসি আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছোট ছোট মুখ—সকাল থেকেই যেন উৎসবের আবহ। কেউ খেলায় মগ্ন, কেউবা রান্নার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ছোট ছোট হাতে সবজি কাটা, চুলা জ্বালানো কিংবা খুন্তি নাড়ানোর দৃশ্য তৈরি করে এক ভিন্ন আনন্দের আবহ। এমনই প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চিত্র দেখা যায়। এতে অংশ নেয় শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনরা।

শুধু খাওয়া-দাওয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। দৌড়ঝাঁপ, লুকোচুরি, দড়ি লাফ, ক্রিকেট, গান-বাজনা—সব মিলিয়ে দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলাধুলার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বেলুন পাসিং, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, লটারির মাধ্যমে ছড়া, কবিতা ও কৌতুক পরিবেশন।

শিক্ষার্থীরা নিজেরাই রান্না করে তা পরিবেশন করে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে। কেউ পানি পরিবেশন করছে, কেউ থালা-বাসন পরিষ্কার করছে- সব মিলিয়ে দলবদ্ধতা, সহযোগিতা ও ভাগাভাগির এক বাস্তব চর্চা লক্ষ্য করা যায়।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল রঙিন সজ্জায়। শিল্পীর ছোঁয়ায় পুরো ক্যাম্পাস যেন রঙধনুর সাত রঙে রাঙানো এক আনন্দভূমিতে পরিণত হয়। এই আয়োজনে অংশ নিয়ে শিক্ষকরাও যেন ফিরে যান নিজেদের শৈশবের স্মৃতিতে।

চড়ুইভাতির অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলে ব্যবসায়ী নুরুল আমীন সোহেল ও মোহাম্মদ হোসাইন বাবু। তাঁরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। ব্যস্ততার মাঝে এমন সময় খুব কমই পাওয়া যায়। আজকের অনুষ্ঠান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সুন্দর হয়েছে।

ক্ষুদে শিক্ষার্থী মারিয়া ও অপরাজিতা জানায়, প্রতিবছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। সারাদিন খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়া আর গান-বাজনায় খুব মজা করি। আমরা চাই এমন আয়োজন সবসময় থাকুক।

সহকারী শিক্ষক মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতেই প্রতিবছর এই চড়ুইভাতির আয়োজন করা হয়।

প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহ বলেন, চড়ুইভাতি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০০৮ সাল থেকে আমরা এই আয়োজন করে আসছি। এতে শিশুদের মানবিক, সামাজিক ও নান্দনিক বিকাশ ঘটে।

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলতে এমন আয়োজন যেন পরিণত হয়েছে আনন্দ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়। হাসি-খুশি মুখ আর উচ্ছ্বাসে ভরা দিনটি শুধু শিশুদের নয়, সবার মনেই ছড়িয়ে দেয় নস্টালজিয়ার ছোঁয়া।

এই আয়োজনে অংশ নেন সুন্দরপুর প্রবাসী পরিষদের নেতৃবৃন্দও। তাঁরা জানান, প্রবাসে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন আয়োজন দেখলে মনে পড়ে যায় শৈশবের সেই দিনগুলো। ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো আবারও যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁরা বলেন,এমন চড়ুইভাতির আয়োজন আমাদের শেকড়ের সাথে নতুন করে যুক্ত করে। প্রবাসে থেকে আমরা এসব মুহূর্ত খুব মিস করি। তাই সরাসরি এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে সত্যিই গর্বিত ও আনন্দিত।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।