আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তম হাটে ৩০ বছরের পুরোনো বাস স্ট্যান্ড দখল করে সরকারি খাস জমিতে দোকান নির্মাণ করেছেন বাজারের ইজারাদার। হাট-বাজার ইজারা নেওয়ার চুক্তি মতে ইজারাদার কেবল রাজস্ব বা হাসিল আদায়ের অধিকার পান; সরকারি ভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা বা দোকান তৈরি করার আইনি এখতিয়ার তাঁদের না থাকলেও বটতলী রুস্তম হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগীদের এমন দখলদারত্বের কারণে বাসচালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইজারাদারের দাবি, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা দোকান নির্মাণ করছে। তবে উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৪৩১ বাংলা সনে (দ্রষ্টব্য: মূল লেখায় ১৪৩৩ লেখা ছিল, যা বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক হলেও আপনার নির্দেশনামতে মূল অর্থ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে) উপজেলার বটতলী রুস্তম হাট বাজারটি ১ কোটি সাড়ে ৬ লাখ টাকায় ইজারা পান স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগীরা। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করায় তাঁদের উপজেলা প্রশাসন থেকে বাজারের হাসিল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, ইজারা পাওয়ার পর থেকেই বাজারজুড়ে সড়ক দখল করেই প্রতিদিন বসে ফলের দোকান ও সিএনজি অটোরিকশা স্টেশন। এতে করে হযরত শাহ মোছেন আউলিয়ার মাজার জিয়ারতে আসা লোকজনসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সম্প্রতি বাজারের উত্তর পাশে ৩০ বছরের পুরোনো বাস স্ট্যান্ড দখল করে দোকান নির্মাণ করলে বাসচালক ও যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাস স্ট্যান্ড দখল করে নেওয়ায় সড়কের মাঝেই রাখতে হচ্ছে বটতলী-চট্টগ্রাম শহরে চলাচলকারী বাসগুলো। স্থানীয়দের মতে, ১০ লাখ টাকায় এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সঙ্গে ইজারাদারের চুক্তিতে এই দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসচালক মো. ইলিয়াস বলেন, "২০ বছর ধরে এই স্টেশনে বাস চালাচ্ছি, এখানেই আমরা বাস রাখতাম। এখন ইজারাদার দোকান নির্মাণ করে তা দখল করে নিয়েছে।"
স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী নঈম উদ্দিন বলেন, "এমনিতেই এই বাজার ও সড়কজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। বাস স্ট্যান্ড দখল করে নেওয়ায় এখন জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।"
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পিএবি সড়ক বাস মালিক সমিতির সভাপতি জাফর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "৩০ বছর ধরেই বাসচালকরা এই জায়গাটি বাস স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সপ্তাহের দুদিন হাটের দিনে এখানে অস্থায়ী দোকান বসলেও অন্যান্য দিনে বাস রাখা হতো। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ করেই জায়গাটি বাজারের ইজারাদার দখলে নিয়ে দোকান নির্মাণ শুরু করেন। এতে আমাদের বাসচালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।"
এ বিষয়ে বাজারের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তাঁরা দোকান নির্মাণ করছেন। ইজারাদার পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, "প্রশাসন অনুমতি না দিলে আমরা কি দোকান নির্মাণ করতে পারতাম?"
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার বলেন, "সরকারি জমি দখল করে ইজারাদারের দোকান নির্মাণের খবর শুনে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ইজারাদার কখনোই বাজারের জমিতে দোকান নির্মাণ করতে পারেন না। বাসচালক ও বাজার ইজারাদারকে উপজেলা কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে।"