কমলো সোনার দাম
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

কমলো সোনার দাম

কমলো সোনার দাম
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম কমা‌নোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০৮ টাকা পর্যন্ত কমা‌নো হয়েছে।

​বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।

​সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা।  

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা।




সোনার দাম আরও কমলো

সোনার দাম আরও কমলো
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম ফের কমা‌নোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমা‌নো হয়েছে।

​শুক্রবার ( ১০ সে‌প্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯ টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।

​সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা।




চালুর ৪ মাসেই কাফকো বন্ধ, উৎপাদনের বাইরে সিইউএফএল ও ডিএপি

চালুর ৪ মাসেই কাফকো বন্ধ, উৎপাদনের বাইরে সিইউএফএল ও ডিএপি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) চার মাসের মাথায় আবার উৎপাদন বন্ধ করেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় থেকে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, কাফকোতে এতদিন দৈনিক ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সোমবার থেকে তা কমিয়ে সাড়ে ৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও কারখানার চাহিদার ভিত্তিতেই সরবরাহ কমানো হয়েছে।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ দেওয়া হবে।

তবে, কাফকো কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়াই উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ নয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কারখানায় বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা ওভারহোলিং করা হয়। এবারও সেই নির্ধারিত কাজের অংশ হিসেবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

কাফকোর চিফ অব পার্সোনেল ফারুখ আহমেদ বলেন, প্ল্যান্টের সচলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন বছর পরপর এক থেকে দেড় মাসের জন্য ওভারহোলিং করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় টিউনিং শেষ হলে কারখানাটি আবার পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে।

এর আগে, দীর্ঘ প্রায় দুই মাস গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকার পর গত ১ মে কাফকোতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রস্তুতি শেষে ২ মে বিকেল থেকে উৎপাদন শুরু করে কারখানাটি। তখন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছিল।

বর্তমানে কাফকোর দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৩২ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়।

কাফকোর উৎপাদন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) ওপরও। কারণ, ওই কারখানার উৎপাদনের জন্য কাফকো থেকে পাওয়া অ্যামোনিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়।

সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ সিইউএফএল

কাফকোর পাশেই রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের বাইরে। গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ৪ মার্চ কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়। আগস্টের শেষ সপ্তাহেও কারখানাটি টানা সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ ছিল।

সিইউএফএলের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। একসময় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে কার্যকর সক্ষমতা কমেছে।

কারখানাটির উৎপাদন বন্ধের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিইউএফএল মাত্র পাঁচ দিন চালু ছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার পর ১৩ অক্টোবর চালু হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি চালুর পর দেড় মাসের মাথায় ১১ এপ্রিল গ্যাস সংকটে আবার বন্ধ হয়।

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২ নভেম্বর চালু হলেও ওই দিনই আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি বছরের ২ মার্চ চালু করা হলেও দুই দিন পর ৪ মার্চ গ্যাস সংকটে ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকালে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এতে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা কারখানাটিতে শিগগিরই ইউরিয়া উৎপাদন শুরুর আশা ছিল কর্তৃপক্ষের। প্রায় ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কারখানাটি সরবরাহ হওয়ার পর এখনো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।

ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে ডিএপি

আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানাটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। গত ১৮ এপ্রিল রাতে কারখানায় মজুত থাকা শেষ অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে প্রথম দফায় উৎপাদন বন্ধ হয়।

কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সেখান থেকে অ্যামোনিয়া পেয়ে ৮ মে ডিএপি কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু জর্ডান থেকে আমদানি করা ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন আবার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড প্রয়োজন হয় এবং সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন চালুর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএপিএফসিএলের দুটি ইউনিটে দৈনিক ৮০০ টন করে মোট ১ হাজার ৬০০ টন ডিএপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

দেশীয় উৎপাদনে চাপ, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা

কাফকো, সিইউএফএল ও ডিএপিএফসিএল, চট্টগ্রামের তিন গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানার উৎপাদন বারবার ব্যাহত হওয়ায় দেশের সার সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ছে। গ্যাস, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সংকটের কারণে কারখানাগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। সংসদে কৃষিমন্ত্রীও এই চাহিদার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিসিআইসির কারখানাগুলো থেকে প্রায় ১০ লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদনের বিপরীতে বাকি প্রায় ১৬ লাখ টন আমদানির প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ফলে দেশীয় উৎপাদন বারবার ব্যাহত হলে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে। কাফকোর নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ দ্রুত শেষ করে উৎপাদনে ফেরানো এবং সিইউএফএল ও ডিএপিএফসিএলে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে দেশে সার সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন ২৫০ কোটি টাকা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন ২৫০ কোটি টাকা
ছবি সংগৃহীত।

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক ২৫০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন।

প্রথম দিনে বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবরও পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জমা পড়ে।

১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনেই ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়।

প্রথম দিন যারা টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন, তাদের গতকাল ব্যাংকে আসতে বলা হয়। তবে তাদের একটি অংশ ব্যাংকে এসে টাকা নেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপাতত আমানত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, মেয়াদি আমানতের টাকা এখন তুলে নিলে মুনাফা পাওয়া যাবে না। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমানত নিরাপদ থাকার আশ্বাস পাওয়ার পর অনেকে আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা সব গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে সবাই টাকা নিতে আসেননি। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমানত চালু রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা আবার ব্যাংকে জমা করেছেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক মশিউর রহমান বলেন, তিনি টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এখন টাকা তুললে মুনাফা পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি আমানত নিরাপদ থাকার বিষয়েও তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে টাকা মেয়াদি হওয়ার পর মুনাফাসহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাদাত বলেন, বাবার চিকিৎসার জন্য তার টাকার প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রথম দিন আবেদন করার পর সোমবার টাকা ফেরত পেয়েছেন। এতে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

এদিকে, এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কিছু গ্রাহক টাকা তুললেও অনেকে মুনাফার বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে, মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।