কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক নির্মাণের কাজ ৮ সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে সায়মন বিচ পর্যন্ত সৈকত এলাকায় চলমান নির্মাণকাজে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, উচ্চ আদালতের পূর্বের নির্দেশনা অমান্য করে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া সমুদ্রসৈকতের নির্ধারিত এলাকায় নির্মাণকাজ করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার সমুদ্রতীরবর্তী প্রথম ৩০০ মিটার এলাকাকে ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

এর আগে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে সায়মন বিচ এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ শহর রক্ষা বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় বালিয়াড়ি ভরাট ও সমতল করার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এর আগে দাবি করেছিল, উপকূলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা এবং শহরের সুরক্ষার স্বার্থে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জরিপ, নকশা ও গবেষণার ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, ইসিএভুক্ত এলাকায় বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। পরিবেশবাদীদের মতে, সৈকতের বালিয়াড়ি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ নয়; এটি জলোচ্ছ্বাস, ঝড়, ঢেউ ও উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদ অঞ্চল লাল কাঁকড়া, সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাস ও প্রজনন পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর আগে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন আন্দোলন ও আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের অভিযোগ, বালিয়াড়ি কেটে বা ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ করলে দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আদালতের সর্বশেষ এ আদেশের ফলে আগামী আট সপ্তাহ সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে সায়মন বিচ পর্যন্ত বালিয়াড়িতে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, পরিবেশগত অনুমোদন এবং উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

কক্সবাজারের পরিবেশসচেতন মহলের দাবি, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করলেও দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই ভবিষ্যতের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।




মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ

মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী মরংঘোনা রবি টাওয়ারসংলগ্ন মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউল আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকালে পূর্ব বড় ভেওলা তহসিল অফিসের সহকারী তহসিলদার মুহাম্মদ আবুল মনসুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী থেকে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সভাপতিকে দায়িত্ব পালনে প্রধান শিক্ষকের বাধা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সভাপতিকে দায়িত্ব পালনে প্রধান শিক্ষকের বাধা, প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ভোটে নির্বাচিত সভাপতিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও কমিটির সদস্যরা মানববন্ধন করেছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নির্বাচিত সভাপতি বাহার উদ্দিন, সদস্য ইলিয়াস, রেহেনা আক্তারসহ অভিভাবক ও কমিটির সদস্যরা। বক্তারা দাবি করেন, পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে বাহার উদ্দিন ৭ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। অপর প্রার্থী এমরাচিং রাখাইন পান ৫ ভোট।

বক্তাদের অভিযোগ, ভোটে বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও বাহার উদ্দিনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং পরাজিত প্রার্থীকে সভাপতি বানাতে প্রধান শিক্ষক তৎপর হয়ে উঠেছেন। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত নির্বাচিত সভাপতি বাহার উদ্দিনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় রেজুলেশন সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল উপেক্ষা করে পরাজিত কোনো প্রার্থীকে সভাপতি হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

তারা বলেন, হারবাং বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ালেখায় পিছিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে সুশিক্ষিত ও যোগ্য বাহার উদ্দিনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগ ও নির্বাচনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিন্মরীময়ী বড়ুয়া।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, "নির্বাচন ও মানববন্ধনের বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।




কক্সবাজারে পুলিশ সদস্যের বাড়ি থেকে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

কক্সবাজারে পুলিশ সদস্যের বাড়ি থেকে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক ও একই পরিবারের মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে। 

তারা হলেন, আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), সাদিয়া ফারহানা (২৩) ও সায়মন সরোয়ার (১৬)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শুরু করে প্রায় তিনঘন্টাব্যাপী অভিযানটি পরিচালিত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশিক মোমেন মেহেদী কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের এসআই শহীদের শ্যালক। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শামসুল আলমের পুত্র। প্রায় ৭/৮ বছর আগে ঝিলংজার হাজীপাড়ায় পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িতেই পরিবার সহ বসবাস করতেন আজকের অভিযানে ধৃত আশিক মোমেন মেহেদী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আমির আলী জানান, পুলিশ কর্মকর্তা শহীদের যোগসাজসে তার শ্যালক মোমেন মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছে। কিছুদিন আগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদের খবর পেলে স্থানীয় কিছু যুবক প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে উল্টো ওই যুবকদের বিরুদ্ধেই ছিনতাই মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ। বিষয়টি থানাকে অবগত করা হলে পুলিশ মাদক মজুদের ঘটনাটি আমলে না নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমলে নেন।
আমির আলী আরও জানান, পরে তথ্যদাতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক মজুদের ঘটনাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারে জানালে সংস্থাটি আজ ভোর সকালে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে। 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, অভিযানে প্রাথমিকভাবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে যদি ওই বাড়ির মালিক তথা পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাকেও আসামি করা হবে।