কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা

কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের আলোচনা সভা
ছবি সংগৃহীত।

পেশাদার সাংবাদিকদের অন্যতম সংগঠন কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে শহরের একটি মিলনায়তনে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ২য় মেয়াদের সভাপতি স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী।

ফোরামের প্রথম মেয়াদের সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীনের সভাপতিত্বে সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন কার্যকরি পরিষদের সভাপতি ইমাম খাইর।

ও সাধারণ সম্পাদক এ.এম হোবাইব সজীবের পরিচালনায় এতে সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন, ওবায়দুল হক চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক এম দিদারুল করিম, দপ্তর সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো, অর্থ সম্পাদক কফিল বিন আমির, নির্বাহী সদস্য ফারুক আহমেদ, এরফান হোছাইন, ইয়াছিন আরাফাত, মোহাম্মদ রাইহান উদ্দিন, শাহরিয়া বাবু, পর্যবেক্ষণ সদস্য ওমর ফারুক বদরী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ছাড়াও পেশাদার কোন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হলে উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরাম ঐক্যেবদ্ধ হয়ে সমুচিত জবাব দিবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়াও সংগঠনের কল্যাণ তহবিল গঠন সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, গ্রেপ্তারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে লিখনির মাধ্যমে ঐ সমস্ত পুলিশের অন্যায়ের জবাব দিতে হবে।

সংগঠনের কার্যকরী সদস্য ফারুক আহমেদ উখিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।




চকরিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসআরবি-১৫

চকরিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসআরবি-১৫
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বজনীন আনন্দ ও ধর্মীয় আবহ রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত দৃশ্যমান টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং রিজার্ভ বলয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোববার বিকেল চারটায় চকরিয়ায় কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।

সাংবাদিক ও উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশ্যে এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অখণ্ড অংশ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব আমাদের সামাজিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।”

উৎসবের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পুরো উৎসবকালীন সময়ে জেলা পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কক্সবাজার ও বান্দরবানের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আমাদের নিয়মিত দৃশ্যমান টহলের (ভিজিবল পেট্রোলিং) পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া যেকোনো জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিমা বিসর্জন ও দশমীর দিন বিপুল জনসমাগম হয়, যা আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরোধ, মাঠপর্যায়ে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা তথ্য নজরে এলে সাথে সাথে আমাদের কন্ট্রোল রুম অথবা নিকটস্থ টহল দলকে অবহিত করবেন। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-১৫ কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর এস এম মারুফ, এসআরবি-১৫ কক্সবাজারের স্কোয়াড কমান্ডার সিপিএসসি ক্যাম্প সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদ হাসান, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেব নাথ, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মজিদ, পৌরসভার সভাপতি টিটু কুমার বসাক প্রমুখ।




টুপটুপ রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ড : মালিক তানভীরকে প্রধান আসামি করে মামলা

টুপটুপ রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ড : মালিক তানভীরকে প্রধান আসামি করে মামলা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে তানভীর সুলতান মিয়া, তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদ এবং প্রতিষ্ঠানটির রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অপর এক আসামির নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ সুমনকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে  এসব তথ্য নিশ্চিত করেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান।

তিনি জানান, পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অধিকতর তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি আতিকুর রহমান। পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের

কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাত জন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারেরই ছয় জন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদেরই এক স্বজন।

জানা গেছে, ছুটি কাটাতে কক্সবাজার গিয়েছেন আশিকুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও স্ত্রীর ছোটবোন লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাগা আগুনে নিহত হন আশিকুল ইসলামের স্ত্রীসহ একই পরিবারের ছয় জন।

আশিকুল ইসলামের ভাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার ভাই (আশিক ইসলাম) ছিল। ভাই হচ্ছে বেঁচে আছে। সে হচ্ছে দুই তলা থেকে লাফ দিয়েছে। আমার ভাবিসহ বাকি ভাবির ফ্যামিলির, তার বোন...এরকম ছয়জন মারা গেছে।’

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বলেছেন, প্রথম দফায় ছয় জনের লাশ এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে টয়লেটে আশ্রয় নেওয়া আরও চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রিসোর্টে অনুসন্ধান কাজ এখনও চলমান আছে।

নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয় জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহমেদ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয় জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।