কউক উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত: কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

কউক উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত: কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

কউক উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত: কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত।

‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ এই প্রতিপাদ্যে কক্সবাজারে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও গণপূর্ত বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কউক ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি প্রধান সড়ক ঘুরে কউক ভবন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

এতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত বিভাগ, পৌরসভা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাল্টিপারপাস হলে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল ও সিস্টেম অ্যানালিস্ট হেলাল উদ্দীন হেজাযী।

এতে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা এবং কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।

অনুষ্ঠানে কউক সচিব সানজিদা বেগম, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রেজাউল করিম মোহাম্মদ তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) ইমাম খাইর। তিনি কউক নির্মিত বিভিন্ন প্রকল্পের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন এবং বিশেষ করে লালদিঘি, গোলদিঘি ও নাপিতা পুকুরের বর্তমান বেহাল চিত্র তুলে ধরেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইমারত বিধিমালা ও বসতি নির্মাণসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে একটি মেগা মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগ, পরিবেশ ও নাগরিক সেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সেমিনারে জানানো হয়, পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শৈবাল ও লাবণী বিচ এলাকাকে ঘিরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ইকো-রিসোর্ট, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থায় বিমানবন্দর ও রানওয়ে সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগেও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, পাটুয়াটেক ও টেকনাফে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিনারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পরিবেশের ভারসাম্য, পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বয় করেই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিশ্ব বসতি দিবসের বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে কউক ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত সেবা স্টলগুলো থেকে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সেবা ও তথ্য প্রদান করা হয়।




রামু উপজেলা বিআরডিবি অফিস পরিদর্শন করেন ইউএনও মোঃ জিল্লুর রহমান

রামু উপজেলা বিআরডিবি অফিস পরিদর্শন করেন ইউএনও মোঃ জিল্লুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান ও উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা স্বরূপ মুহুরী।


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিআরডিবি কার্যালয় পরিদর্শনকালে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু, ভাইস-চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু ও বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


পরিদর্শনকালে ইউএনও বিআরডিবি কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং কার্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি কার্যালয়ের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দেন।


তিনি বলেন, বিআরডিবি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ সময় বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয় ইউএনওর কাছে তুলে ধরেন।




চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ২ আসামি গ্রেপ্তার ও ব্যবহৃত নোয়া গাড়ি জব্দ

চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ২ আসামি গ্রেপ্তার ও ব্যবহৃত নোয়া গাড়ি জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যাকাণ্ডে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে আনোয়ার হোসেন ওরফে কাল্লু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জিসাত মিয়া ওরফে শওকত ড্রাইভারকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিলভার রঙের একটি নোয়া গাড়ি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চট্টমেট্রো-চ-১১-৫৯৬৯) জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও মিশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকা থেকে জিসানকে একটি সাদা বা সিলভার রঙের নোয়া গাড়িতে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে খুটিখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চকরিয়া থানার হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করে চকরিয়া থানা পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমানের দিকনির্দেশনায়, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে চকরিয়া থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা মো. জিসানকে (২৬) অপহরণ ও হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।




রামুর ঈদগড়ে সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দু'জন আটক

রামুর ঈদগড়ে সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দু'জন আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ঘিলাতলী এলাকায় সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে বন বিভাগ।

জানা গেছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ঈদগড় বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিয়াজীর নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঈদগড় ঘিলাতলী এলাকার কালু মিয়ার ছেলে নাঈম উদ্দিন এবং রশিদনগর মুরাপাড়া এলাকার আবদু শুক্কুরের ছেলে সুলতান আহমদ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বনায়ন থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈদগড় বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিয়াজী জানান, বন ও সামাজিক বনায়ন রক্ষায় অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।