আবুধাবিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা, কৃতীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও শিক্ষাগত সাফল্যকে উৎসাহিত করতে বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিল্পচর্চা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুলের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আমিরাতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আই লাভ বাংলাদেশ, আই লাভ ইউএই’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক পুরস্কার এবং চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।
তিনি বলেন, “আমিরাতের মাটিতে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুরা শিকড়ে বাংলাদেশি হয়ে স্বগর্বে লাল-সবুজের ঐতিহ্য ধারণ করবে এবং আমিরাতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
বিজয়ী শিশুশিল্পী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের মূল শক্তি হলো মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য। এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও শিক্ষাগত অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগায়। শিশু-কিশোরদের শিল্পচর্চা ও মেধার বিকাশ একটি সচেতন, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারা আরও বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও গভীর করবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও আন্তসাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন বক্তারা।











